এর আগে, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। নগরজুড়ে অপরাধীদের আস্তানা, অস্ত্র ও মাদকের সম্ভাব্য সব স্পটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য হলো- কোনো একটি স্থানে হানা দিলে যাতে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে। সে কারণে ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
.png)
সম্প্রতি নগরীতে একটি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে নগরবাসীর মনে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাহীনতা দূর করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে পুলিশের ব্যর্থতার বিষয়টিও স্বীকার করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।
তিনি বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সম্ভাব্য অবস্থান শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্তরা বাইরে থেকে অস্ত্র নিয়ে শহরে প্রবেশ করেছে- এমন কোনো তথ্য নেই বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। তার মতে- শহরের প্রবেশমুখে নিয়মিত চেকপোস্ট থাকায় অপরাধীরা এ ঝুঁকি নেয়নি। বরং শহরের ভেতরেই কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমন বেশ কয়েকটি স্পট ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। সবগুলোতে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অপরাধীদের পরিচয় ও অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রগুলো থানার লুট হওয়া নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা, তা নিশ্চিত নয়। তবে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের ১০টি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়েছে। সিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান চলবে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।