মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়৷
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
.png)
তিনি বলেন, বেলা ১২টার দিকে আইসিইউতে সামিরের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল এবং ইনহ্যালেশন ইনজুরি ছিল।
এর আগে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার ছেলে মো. শাওন (১৬)। এ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হলো। বাকি ছয়জন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে দগ্ধ হন নারী-শিশুসহ একই পরিবারের নয়জন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়ায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
দগ্ধ বাকি ছয়জন হলেন- শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মো. শিপন (৩০), আয়েশা আক্তার (৪), উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (৯) ও ফারহান আহমেদ আনাস (৭)।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, শাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। মো. শিপনের ৮০ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ ও ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে নুরজাহান আক্তার রানীর (৪০) শরীরের ১০০ শতাংশ ও তার ছেলে মো. শাওনের (১৬) শরীরের ৫০ শতাংশ এবং সামির আহমেদ সুমনের (৪০) শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।