সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত শিডিউলড ব্যাংক স্ট্যাটিস্টিকস প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের বিভাগ, জেলা ও থানা ভিত্তিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকদের মোট ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আমানতের মধ্যে এক কোটি ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬২১ ব্যাংক একাউন্টে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রেখেছেন চট্টগ্রাম জেলার গ্রাহকরা। জেলার ৩২টি থানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকার গ্রাহকদের। সবচেয়ে কম ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানা এলাকার গ্রাহকদের।
.png)
১১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৮ হাজার একাউন্টে ৭৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা জমা রেখেছেন ডবলমুরিং থানা এলাকার ব্যাংক গ্রাহকরা। যা পুরো দেশের মোট আমানতের চার দশমিক এক শতাংশ।
দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অবস্থান এ থানা এলাকায়। এছাড়াও বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান ও যোগাযোগসহ নানামুখী সুবিধার কারণে শত বছর আগে থেকেই শহরের বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে আগ্রাবাদ। ফলে এ এলাকার ব্যাংকগুলোতে লেনদেন হয় বেশি।
ডবলমুরিংয়ের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে একসময়ের শীর্ষে থাকা নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকা। ১৪ লাখ ৬১ হাজার ২০৭ একাউন্টে ৫৫ হাজার ৪০ কোটি টাকা জমা রেখেছেন এ থানা এলাকার গ্রাহকরা। যা দেশের মোট আমানতের তিন শতাংশ।
এ থানা এলাকায় অবস্থান ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের। ফলে এ এলাকায় ব্যাংক লেনদেনও হয় বেশি। খাতুনগঞ্জের কারণে একসময় ব্যাংক লেনদেনে শীর্ষে ছিল কোতোয়ালি। কিন্তু দিনে দিনে খাতুনগঞ্জ সেই জৌলুস হারানোয় শীর্ষ অবস্থান হারিয়েছে কোতোয়ালি।
অন্যদিকে, ৪৬ হাজার ৯৫৩ ব্যাংক একাউন্টে ৩১ হাজার ৬৭৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানা এলাকার গ্রাহকরা। যা জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম। মূলত এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় অধিকাংশ ব্যাংকের শাখা নেই এ এলাকায়। তাছাড়া উপজেলা সদর হিসেবে ফটিকছড়ির দিকে ছুটেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি। সারাদেশে এসব ব্যাংকের শাখা রয়েছে ১১ হাজার ৩০০টি।