অতীতে বাংলায় বিভিন্ন দেশের জলদস্যুরা আসত চুরি ডাকাতি বা সম্পদ লুট করতে। তাদের নিয়ে অনেক গল্প, কবিতা, ছড়াও লেখা হয়েছে। একটি ভয়ানক দস্যু আসত মগ রাজার দেশ থেকে। তারা ছিল মূলত পর্তুগিজ নৌ-দস্যুদের রাজাকার বাহিনী। মগরা এ অঞ্চলে এসে যে অরাজকতার সৃষ্টি করত, তার মাত্রা বোঝানোর জন্য বলা হতো ‘মগের মুল্লুক’ অর্থাৎ যা খুশি তাই করার দেশ।
এতসব ইতিহাসের মাঝে ‘মগের মুল্লুক’ নামে একটি হোটেলের দেখা মিলেছে ঝিনাইদহে। নামের কারণে হোটেলটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে খাবার খেতে আসছেন ভোজন রসিকরা।
.png)
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের আমতলা নামক স্থানে রাস্তার পাশে হোটেলটির অবস্থান। হোটেলটিতে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। বিক্রি করা হয় হালিম, লুচি, আলুর দম, গরুর মাংস, নেহারি, খিচুড়িসহ সুস্বাদু সব খাবার। এমনকি ১ হাজার টাকা কেজিতে রান্না করা গরুর মাংস, ১২০ টাকা কেজিতে খিচুড়িও বিক্রি করা হয়। ঘরোয়া পরিবেশে রান্না করা সুস্বাদু এসব খাবার খেতে প্রতিদিন ভিড় করেন ঝিনাইদহসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার মানুষ।

হোটেলটিতে খেতে আসা ফারদিন আবরার রাবু বলেন, বন্ধুৃদের মাধ্যমে জানতে পেরে হোটেলটিতে খেতে এসেছি। অন্যান্য হোটেলের চেয়ে এখানে রান্নাও ভালো, নামটাও ব্যতিক্রম। খাবারের অনেকগুলো আইটেম আছে। বলতে গেলে অন্যান্য জায়গার থেকে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে এসব খাবার।
জীম নামে আরেকজন বলেন, ‘মগের মুল্লুক’ নাম শুনে হোটেলটিতে এসে হালিম খেলাম। এককথায় অসাধারণ স্বাদ।
হৃদয় নামে আরেক ভোজনকারী বলেন, মান বজায় রেখে এত কম টাকায় বর্তমান সময়ে খাবার পাওয়া দুষ্কর।
‘মগের মুল্লুক’ হোটেলের মালিক রোকন শেখ বলেন, বিভিন্ন নামীদামি হোটেলে খাওয়ার আগে ও পরে খাবারের মূল্য বা দাম পাল্টে যায়। এতে অরাজক পরিস্থিতি শুরু হয় হোটেল কর্তৃপক্ষ ও ভোজনকারীদের মাঝে। হোটেল মানেই যে ‘মগের মুল্লুক না- এটা বোঝাতেই এমন নাম দিয়েছি। দোকানের বয়স অল্প কয়েকদিন হলেও ‘মগের মুল্লুক’ নাম ও খাবারের স্বাদের কারণে ঝিনাইদহসহ আশপাশের কয়েক জেলায় এই দোকানের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ছোট্ট এই দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার খাবার।