কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের বুরুদিয়া নামাপাড়া গ্রামের ঘটনা এটি। নিহত আল-আমিন ওই গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
জানা গেছে, নিহত আল-আমিনের পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পারেন পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো.বিল্লাল হোসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার পরিবারের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা এবং চাল, ডাল, তেলসহ ৪টি কম্বল তুলে দেন। এছাড়াও পরিবারটিকে সরকারি ভাতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউএনও’র এমন মানবিকতায় স্থানীয় লোকজন প্রশংসা করেন।
.png)
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ছয়মাস ধরে হার্টের অসুখে ভুগছিলেন দিনমজুর আল-আমিন। একপর্যায়ে গত দুইমাস ধরে প্রায় শয্যাশায়ী। একেবারে সহায়-সম্বলহীন আল-আমিন অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে না পেরে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন। তার মৃত্যুতে ৫ বছর এবং ৩ ও ২ বছরের তিনটি সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্ত্রী। একদিকে স্বামীর মৃত্যু, অপর দিকে তিন সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই নারী।
আল-আমিনের অসহায়ত্বের বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে সামাজিক সংগঠন ‘ভয়েস অব পাকুন্দিয়া’র সদস্যদের। এর প্রেক্ষিতে এর প্রতিষ্ঠাতা এসএম রায়হান গত ৩১ ডিসেম্বর অসুস্থ সহায়-সম্বলহীন আল-আমিনের চিকিৎসার সাহায্যে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে পরদিন বুধবার (১ জানুয়ারি) রাতে মারা যান আল-আমিন।
এসএম রায়হান বলেন, আল-আমিনের চিকিৎসার জন্য অনুরোধ জানানোর প্রেক্ষিতে এরমধ্যে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা অনুদান এসেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় তিনি আমাদের মাঝে আর বেঁচে নেই। তবে আমরা তার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। সবার সহযোগিতায় আমরা তা করতে পারব বলে আশা করছি।
পাকুন্দিয়ার ইউএনও মো.বিল্লাল হোসেন জানান, মানুষ মানুষের জন্য। পরিবারটির অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে সামান্য সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবানদের উচিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।