শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে খরকুটো দিয়ে আগুন জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ডেকে আছে মাঠ-ঘাট-প্রকৃতি। এদিকে, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিয়েছে।
সকালে পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সর্বত্রই কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি। সেইসঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে না।
.png)
উপজেলা স্থাস্ব্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শীতের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সংখ্যা বেড়েছে। এসব রোগীর মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নির্মাণশ্রমিক মো. মহসিন মিয়া বলেন, দৈনিক কাজ করে সংসার চালাতে হয়। শীত ও কুয়াশায় টিকে থাকাই মুশকিল, তবুও পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। খুবই কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চললে আমাদের মতো গরিবদের চলাচল খুবই কষ্ট হয়ে উঠবে।
রিকশাচালক মো. হোসেন আলী বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পযর্ন্ত রিকশা চালাই। কিন্ত গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশা ও শীত বেশি থাকায় সন্ধ্যার পর চলে আসি। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লোকজন বের হয় না। তাই আয়-রোজগার কমে গেছে।
শ্রমিক মো. জারু মিয়া বলেন, এখন চারদিকে বোরো ধান আবাদের কাজ চলছে। পেটের দায়ে কাজ করতে হয়। শীত থাকায় বেশিক্ষণ কাজ করা যায় না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বসে থাকতে হয়।
অপর দিকে, শীত বাড়ার সঙ্গেসঙ্গে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে মানুষের। বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় নিম্ম ও মধ্য আয়ের লোকজন ছুটে চলছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে।
ব্যবসায়ী মো. মান্নান মিয়া বলেন, আমার দোকানে ৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা দামের কাপড় পাওয়া যায়। এ বছর শীতের শুরু থেকে গরম কাপড় বিক্রি ভালোই হচ্ছে।
গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, গত দুইদিন ধরে আমার মেয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। সকাল থেকে তার অবস্থা কিছুটা ভালো। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম।
সিএনজি চালক রফিক মিয়া বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কুয়াশার কারণে কিছু দেখা যায় না । গাড়ি চালাতে ভয় করে। তাছাড়া কুয়াশার কারণে লোক চলাচল কমে যাওয়ায় তাদের আয় ও কমেছে বলে জানান।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. হিমেল খান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শীত বাড়ছে। এ কারণে এলাকায় রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া নানা বয়সী রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।