আসাদের মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের দাবি দালালরা অমানুষিক নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছে। শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি মরদেহ ফেরত দিতেও চাইছে মোটা অংকের টাকা। এদিকে দালাল রুবেলের বিচারসহ নিহত আসাদের লাশ বাংলাদেশে ফেরত চেয়েছেন স্বজনরা।
আসাদের পরিবারের অভিযোগ, মাদারীপুর ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের আসাদ মাতুব্বর (৩৮) স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল। লিবিয়া যাওয়ার পর ফিকে হয়ে যায় সেই স্বপ্ন। বন্দি হয় মাফিয়ার হাতে। কয়েক ধাপে ৪২ লাখ টাকা নিয়েও মুক্তি মেলেনি তার।
.png)
জানা গেছে, দুই বছর আগে আবদুল হাকিম মাতুব্বরের ছেলে আসাদ মাতুব্বরের সঙ্গে সদর উপজেলার ঝিকরহাট গ্রামের স্থানীয় রুবেল খানের মধ্যে ১৭ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি হয়। তবে লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরেই টাকা জন্য পাচারচক্রের সদস্যরা একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি নির্যাতন করার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে দেখায়। পরে বাধ্য হয়ে কয়েক দফায় আসাদের পরিবারের কাছ থেকে নগদ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ৪২ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। লিবিয়ায় বন্দি থেকেও পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন আসাদ। হঠাৎ লিবিয়া থেকে বুধবার সকালে ফোন আসে আসাদ মারা গেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি আসাদকে টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন রুবেল ও তার সহযোগীরা।
নিহতের স্ত্রী রাখি আক্তার বলেন, আমার স্বামীকে টাকার জন্য মেরে ফেলেছে। আমি সেদিন সকালে কথা বলেছি স্বামীর সঙ্গে। সন্ধ্যায় খবর পেলাম আমার স্বামী মারা গেছে। আমি ভিডিও কলে লাশ দেখতে চাইলে লাশও দেখায়নি। আমি এর বিচার চাই।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাড়ি ভর্তি মানুষ। সবার চোখে পানি। বাড়ির আঙিনায় আসাদের মা, স্ত্রী দুই ছেলে, ভাই, বোনসহ স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশী কেউ কেউ তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। পুরো বাড়িতে চলছে মাতম।
ছেলের মরদেহ ফেরত পেতে চায় নিহত আসাদের মা কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা লাশ ফেরত চাই। তবে লাশ নিতে আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে রুবেল ও তার সহযোগীরা। আমি বিচার চাই।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. সজীব বলেন, মাদারীপুরে মানব পাচারের ঘটনা বেশি ঘটে। তাই স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনার আবেদন করলে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।