চট্টগ্রাম বন্দর ও লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের তথ্যমতে, দেশের ৪৫টি ঘাটে ৭৩৮টি জাহাজে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি জাহাজ আটকা পড়েছে যশোরের নওয়াপাড়া, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ও মেঘনা এবং সিরাজগঞ্জের ঘোড়াশাল ঘাটে।
এছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ৩৫টি জাহাজে বোঝাই করা অর্ধলাখ টন পণ্য আটকে আছে। বন্দরের বহির্নোঙরে ২০টি বড় জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে আরো প্রায় সাড়ে চার লাখ টন পণ্য।
.png)
সোমবার চাঁদপুরের হাইমচর মাঝিরচর এলাকায় মেঘনা নদীতে সারবাহী এমভি আল বাখেরা জাহাজ থেকে ৭ জনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঐ ঘটনার পরপরই প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নৌযান ফেডারেশন।
চার দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে বিচার, নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান। তবে এ নিয়ে প্রশাসন কোনো আলাপ-আলোচনা করেনি সংগঠনটির সঙ্গে। ফলে কর্মবিরতি শুরু হয়ে যায়।
বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক নবী আলম বলেন, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।
কর্মবিরতির কারণে বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় থাকা ২০টি বড় জাহাজে পণ্য আমদানি বাবদ আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। বিদেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা এসব বড় জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বা প্রতিদিন ন্যূনতম হারে পণ্য খালাসের চুক্তিতে পণ্য পরিবহন ভাড়া ঠিক হয়। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে চুক্তির শর্ত রক্ষা করা কঠিন হয়ে যায়।
নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, নৌযান শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। জাহাজে খুনের ঘটনায় আসামিদেরও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা তদন্ত চলছে। এছাড়া নৌপথে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
তিনি আরো বলেন, রোববার তাদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছি আমরা। তার আগে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য আমরা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুত তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন। কারণ, কর্মবিরতিতে দেশেরই ক্ষতি হচ্ছে। পণ্য খালাস না হলে বড় জাহাজের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।