ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমেনি সবজির দাম 

আল হাবিব, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৩:৪১, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমেনি সবজির দাম 
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য -ছবি: সংগৃহীত

বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাইকারি বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আলুর দাম। শীত মৌসুম থাকায় হরেক রকম সবজিরও দাম কমেছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করলেও খুচরা পর্যায়ে এসব পণ্যের দামে এখনো তেমন প্রভাব পড়েনি। ভোক্তারা বলছেন, পাইকারি বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। পাইকারি-খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে আছে দামের বিস্তর ফারাক।

গেল ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। যদিও এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, আদা ও রসুনের দাম কমেছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৫-৫৫ টাকায়। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০-৭০ টাকায়। পাইকারিতে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-২০০ টাকা কেজি, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০-২৩০-২৪০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০-৫৫ টাকা কেজি, যা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। আদা প্রতি কেজি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়, যা খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়।

Advertisement

শহরের জগন্নাথ বাড়ী রোড, জেল রোড এলাকার কিছু কিছু খুচরা বিক্রেতা দামটা পাইকারি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে বিক্রি করলেও অনেকেই বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। এছাড়াও শহরের আলফাত স্কয়ারসহ ষোলঘর, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, মোহাম্মদপুর, নবীনগর এলাকায় এখনো আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা। বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতাদের অনেকেই।

সুনামগঞ্জের বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা কম থাকায় বাজারে সরবরাহও কম। আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদাই বেশি। পৌর শহরের পাইকারি আড়তে গিয়ে দেখা যায় প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৪৫-৫৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৫-৪৮ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ, রসুন, আলুসহ সবজির মৌসুম চলছে। যে কারণে দাম কমতে শুরু করেছে।

পৌর শহরের আড়ৎপট্টি এলাকার পাইকারি বিক্রেতা মোল্লা ট্রেডার্সের মখলিছুর রহমান বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজ, রসুন, আলু, আদার দাম কমেছে। আমি কম লাভে ভালো মানের পেঁয়াজ, রসুন, আলু,আদা বিক্রি করছি। এতে খুচরা বিক্রেতারা খুব খুশি, আমার ব্যবসাও ভালো হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, এলসি বিক্রি করছি প্রতি কেজি ৪৮ টাকায়।

তিনি বলেন, দেশি আলু প্রতি কেজি ৪২ টাকা, দেশি রসুন এবং চায়না রসুন প্রতি কেজি ১৮৫ টাকা, আদা প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। লাভ কম করায় আমার দোকানে খুচরা বিক্রেতারা মাল নিতে আসছেন নিয়মিতই।

আড়ৎপট্টি এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন মূল্য তালিকা থেকে জানা যায়, পাইকারি প্রতি কেজি আলু ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ এলসি ৫০-৫৫ টাকা এবং রসুন দেশি এবং চায়না বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

একাধিক পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে দামের পার্থক্য নিয়ে কথা হলে তারা জানান, পেঁয়াজ, রসুন, আলুর মধ্যে গুণগত মানের তফাৎ আছে। যে কারণে দামটাও কম বেশি আছে।

কাঠইর এলাকা থেকে এসেছেন রমিজ মিয়া। হাতে একটি ব্যাগে আলু এবং পেঁয়াজ রয়েছে। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ শহরের কিচেন মার্কেট ঘেঁষা একটি পাইকারি দোকান থেকে তিন কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি দরে ১৩৫ টাকায় এবং পাঁচ কেজি আলু প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে ২২৫ টাকায় কিনেছি। একমাস পরে সস্তায় আলু, পেঁয়াজ কিনতে পেরেছি।তিনি বলেন, বাজারে একেকটা দোকানে একেক রকম দাম। আমি তিন-চারটি দোকানে যাচাই-বাছাই করার পর একটি দোকানে গিয়ে এই দামে কিনতে পেরেছি। যাচাই-বাছাই না করলে বাজারে মাল কিনলে ঠকতে হবে।

দিনমজুর রফিক আহমেদ বলেন, আমি এক কেজি আলু কিনেছি ৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এক কেজি আলু ৭০ টাকায় কিনে খেয়েছি। আজকে দাম কমেছে। এতদিন আলু কিনে খাওয়ার সাহস পাইনি। অন্যান্য সবজির দামও কমেছে। আমরা গরিব মানুষ, দাম কমলে একটু শান্তি পাই।

পৌর শহরের সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সবজি উঠেছে। দামও কমেছে। সবজির দামে ক্রেতারা খুশি।

শহরের কিচেন মার্কেট এলাকায় সবজি বাজারে বাজার করতে এসেছেন রিকশাচালক আবুল হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবজির দাম কমায় খুবই খুশি হয়েছি। আজকে এক হালি মুলা ১০ টাকায় কিনেছি। এই মুলা পনের দিন আগে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন কিনতে সাহস পাইনি। আজকে হাফ কেজি আলু ২৫ টাকায় কিনেছি। এই আলু গেল কয়েকদিনে খাওয়া বন্ধ রেখেছিলাম। তখন আলুর কেজি ছিল ৭০-৮০ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি করলা ৫০-৬০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৫০-৭০-৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৩০-৪০ টাকা, শিম প্রকারভেদে ৩০-৫০-৬০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা কেজি, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা কেজি, পাতাকপি প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ২০-৩০-৪০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা, লালশাক প্রতি চার-পাঁচ আঁটি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে দামের পার্থক্য এবং বাজারগুলোতে মূল্য তালিকা সেঁটে না রাখার বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তদারকি করে এর প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: সুনামগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!