ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেতু যেন মরণফাঁদ

সাগর মিয়া, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১১:০১, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
সেতু যেন মরণফাঁদ
জরাজীর্ণ সেতু। ফাইল ফটো

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের জগদল-নুরিয়ার দোকান বাজার সড়কের পাশে আতিরা সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তারা ওঠে গেছে। বেরিয়ে গেছে রড। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা থাকলেও সংস্কারে নেই কোনো কার্যকরী উদ্যোগ। ফলে বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে মানুষ।

জানা গেছে, প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এ সেতুটি। বর্তমানে সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থা। তবুও  বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছেন ৫ গ্রামের হাজারো মানুষ। সেতুটি জগদল গ্রামসহ পুমদী ও গোবিন্দপুর দুই ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আল আমিন ভূইয়া জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। মনে ভয় আর ঝুঁকি নিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ, অটোরিকশাসহ হালকা ও ভারি যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। 

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম পারভেজ ও মো. মোশাররফ জানান, অনেক কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা সাইকেলে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। তাছাড়াও সেতুর ওপর দিয়ে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন  অভিভাবকরাও। তাই জনস্বার্থে এই সেতুটি নির্মাণ করা জরুরি। 

স্থানীয় শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া জানান, এটি অনেক আগের সেতু। সাইডে কোনো রেলিং নেই। নিচ দিয়ে ভেঙে পড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ 

হোসেনপুর উপজেলা জনদুর্ভোগ নিরসনে নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম ফকির বলেন, আতিরার এই সেতুটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনতিবিলম্বে এই সেতুটি নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীরাসহ এলাকাবাসী যেমন লাভবান হবে, পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। 

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশলী গালিব মুর্শিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই সেতুটি সংস্কার করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!