স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিংরইল ইউপির নারায়ণপুর গ্রামের স্কুলপড়ুয়া এক ছাত্রীকে একই ইউপির কচুরীচর পাড়া গ্রামের মো. হানিফ মিয়ার বখাটে পুত্র মোহাম্মদ হোসাইন গত ১ জুন অস্ত্রের মুখে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে। অজ্ঞাতস্থানে আটকে রেখে ২ মাসব্যাপী ধর্ষণ ও শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
.png)
মামলা সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে হোসাইন স্কুলছাত্রীকে প্রেম নিবেদনসহ কটূক্তি করে আসছিল। স্কুলছাত্রী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে সাগাটা পাড় কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তা থেকে মুখ বেঁধে বিবাদী ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন মিলে সিএনজিতে করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলমান থাকায় পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি।
বিগত ৬ সেপ্টেম্বর রশিদ মেম্বারের বাড়ির দক্ষিণের রাস্তায় মারাত্মক জখম অবস্থায় রাত আনুমানিক ৭টার দিকে বিবাদী মুমূষু অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্কুলছাত্রীর একটি চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে ঢাকা আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করে।
এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাসহ বিবাদী হোসাইনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পরে মেয়ের বাবা হোসাইনকে একমাত্র আসামি ও অজ্ঞাত নামা ২-৩ জনের নামে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই কর্তৃপক্ষকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর মো. মোসলেম উদ্দিন আদালতের নিদের্শনা পেয়ে মামলাটি নান্দাইলে এসে সরেজমিন তদন্ত করে গেছেন। স্কুলছাত্রীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা যায়।