এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে স্থানীয় একটি বাজারের দোকানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন জাসদের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের একটি মোটরসাইকেল।
শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ ও বিজিবি অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
.png)
নিহত রফিকুল ইসলাম দুদু একই গ্রামের আজিজ মণ্ডলের ছেলে। তার ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে অভিযানের ব্যাপারে পুলিশের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদগ্রামের ৪ নম্বর ব্রিজের কাছে রফিকুলের চায়ের দোকান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভেড়ামারা থানার এসআই সালাউদ্দীন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ব্রিজ থেকে রফিকুল লাফ দেন। পুলিশ সেখানে ধাওয়া করে তাকে আটক করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় জাসদের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে পুলিশকে ধাওয়া দেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে ধরে মারধর করেন। পরে তাদের বাজারের একটি দোকানে আটকিয়ে রাখা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ওই এলাকায় মাদক অভিযানে গিয়েছিল। তবে এর বেশি কিছু জানাননি তিনি।
নিহতর ছেলে সৌকত আলী বলেন, আমার আব্বার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। পুলিশ আমার আব্বাকে মেরে ফেলেছে।
নিহতের ছোট ভাই চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, আমার ভাই রফিকুল কোনো মামলার আসামি নন। মামলার কোনো ওয়ারেন্টও দেখাতে পারেনি পুলিশ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) আবদুল খালেক জানান, তিন পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কেন পুলিশ সেখানে গিয়েছিল সেটার তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে যাওয়া পুলিশদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।