ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বকেয়া মজুরি পেয়ে কাজে ফিরেছেন চা শ্রমিকরা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
বকেয়া মজুরি পেয়ে কাজে ফিরেছেন চা শ্রমিকরা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারের কমগঞ্জের মনু-দলই ভ্যালির ন্যাশনাল টি কোম্পানির ফাঁড়িসহ ৮টি বাগানে মঙ্গলবার সকাল থেকে চা শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর সোমবার দেওয়া হয়েছে দুই সপ্তাহের মজুরি। জানুয়ারি মাসে বাকি ৪ সপ্তাহের মজুরি দেওয়া হবে চা শ্রমিকদের। 

গত সোমবার ৬ সপ্তাহের মধ্যে দু-সপ্তাহের তলব (মজুরি) পেয়ে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে চা শ্রমিকদের। 

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের ২নং সেকশনে গিয়ে নারী শ্রমিকদের চা পাতা চয়ন করার দৃশ্য চোখে পড়ে।

Advertisement

এ সময় চা পাতা চয়নকালে কয়েক জন নারী চা শ্রমিক বাসন্তী রাজগড়, ললিতা ভর, মালতি, শ্যামবতীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাবু আমরা বকেয়া মজুরি না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাই কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। গতকাল আমরা দুই সপ্তাহের তলব (মজুরি) পেয়ে আজ কাজে যোগ দিয়েছি।

কাজে পরিদর্শনে থাকা অত্র বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৪৯ দিন পর চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এরমধ্যে চা বাগানগুলোর অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো কাজের মাধ্যমে কোম্পানির ক্ষতির কিছুটা অংশ পুষিয়ে দেওয়ার। তবে কোম্পানি এই কয় মাসে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ আগস্ট থেকে ৬ সপ্তাহ মজুরি না পেয়ে কাজ বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। প্রায় ৩ মাস ধরে মজুরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদফতর কার্যালয়ে চা শ্রমিকদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও ন্যাশনাল চা কোম্পানির যৌথ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বকেয়া ৬ সপ্তাহের মজুরি দুই থেকে তিন কিস্তিতে দেওয়া হবে। এরমধ্যে দুই সপ্তাহের মজুরি গতকাল দেওয়া হয়েছে। মজুরি পেয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শফিকুর রহমান মুন্না বলেন, শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বকেয়া মজুরি দেওয়া হয়েছে। মাসিক বেতনধারী শ্রমিকদের ২০ ডিসেম্বর ১ মাসের বেতন দেওয়া হবে। এখন থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা হবে। বাগানের কর্মচারীদের ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ১ মাসের বেতন দেওয়া হবে। এছাড়া বাগান বন্ধের দিনগুলোতে চা শ্রমিকদের রেশন কাটা হবে না। বোনাস ও বার্ষিক ছুটির দিন গণনার ক্ষেত্রে বাগান বন্ধের দিনগুলো অনুপস্থিত দেখানো হবে না।

এদিকে, অবশিষ্ট বকেয়া মজুরি আগামী ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করা হবে বলে জানা যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!