নিহত লামিয়া আক্তার তিন্নি উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের নিজাম উদ্দিন হাওলাদারের মেয়ে তিন্নি আক্তার লামিয়ার সঙ্গে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের হারুন খানের ছেলে অটোচালক মনিরুলের চলতি বছরের মার্চ মাসে বিয়ে হয়। তিন্নি তখন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বিয়ের মাত্র ৮ মাসের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর পরকীয়ার তুচ্ছ অভিযোগ তুলে স্বামী মনিরুল ইসলাম স্ত্রী তিন্নির মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
.png)
এ সময় তিন্নি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন স্বামী মনিরুল তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তিন্নিকে চিকিৎসার জন্য আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় মনিরুল ইসলাম স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন হাসপাতালে উপস্থিত জনতা মনিরুলকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তিন্নির মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
তিন্নির ভাই রাব্বি হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য পিটিয়ে হত্যা করেছে। বিয়ের সময় আমার বাবা তিন্নির সংসারের সুখের কথা ভেবে সংসারের মালামাল এবং গলার চেইন ও কানের দুল দিয়েছিল। কিন্তু আমার বোনের কপালে সেই সুখ সইলো না। মাত্র ৮ মাসের মাথায় তাকে ৩ লাখ টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হলো।
চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, যৌতুকের জন্য তিন্নি আক্তার লামিয়াকে স্বামী মনিরুল এবং তার শ্বশুর হারুন খান ও শাশুড়ি লাইলী বেগম প্রায়ই নির্যাতন করতেন। ঘটনার দিন স্বামী মনিরুল স্ত্রী তিন্নির নিকট ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ টাকা দিতে না পারায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে অভিযুক্ত স্বামী মনিরুল ইসলামের অভিযোগ স্ত্রী তিন্নি পরকীয়া করতো। আমি নিষেধ করার পরও সে শুনতো না। ওই বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবারও হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে পরকীয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে মাথায় সামান্য লাঠির আঘাতেই তিন্নির মৃত্যু হয় বলে মনিরুল স্বীকার করে।
আমতলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খান বলেন, তিন্নির মাথায় লাঠির আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মুত্যু হয়।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ বলেন, হাসপাতাল থেকে তিন্নির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত তিন্নির স্বামী মনিরুলকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।