মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন আইনজীবীরা। সেই সমাবেশ থেকে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় এখনো চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। অনতিবিলম্বে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করছি। অন্যথায় আইনজীবীদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
.png)
আইনজীবীরা আরো বলেন, সন্ত্রাসী উগ্রপন্থী চিন্ময়কে দায়ের হওয়া সব মামলায় গ্রেফতার দেখাতে হবে। উগ্রপন্থী ইসকন সন্ত্রাসীদের এই চট্টগ্রামের মাটি থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে দেব। এই বাংলার জমিনে ইসকন সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। শহীদ আলিফের রক্তের আন্দোলনে অংশ নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। এ সময় আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগের তীব্র নিন্দা জানান তারা।
এদিন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানির কথা ছিল। কিন্তু তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আগামী ২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতের নাজির নেছার আহমদ বলেন, আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় জামিন পেছানোর আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়েছেন আদালত। আগামী ২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপরই আদালত এলাকায় শুরু হয় তার অনুসারীদের তাণ্ডব। কারাগারে নেয়ার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে অনুসারীরা প্রিজন ভ্যানটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর এবং চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা জামাল উদ্দিন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
একইদিন শুক্রবার কোতোয়ালি থানায় আরো একটি মামলা করেন আলিফের বড়ভাই খানে আলম। আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ১১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। নতুন দুটি নিয়ে ২৬ নভেম্বর আদালত এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আট আসামিকে সাতদিনের রিমান্ড দেন আদালত।