কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, বুধবার (৪ ডিসেম্বর)থেকে কারখানার সব ইউনিট পুনরায় চালু হবে এবং পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী কাজ চলবে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কারখানার জরুরি ইউনিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমিক প্রতিনিধি স্মৃতি আক্তার (শাহিদা), সাধারণ সম্পাদক, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফেডারেশন; বিজিএমইএর সহকারী সম্পাদক এজেএম আশরাফুল আলম এবং লেবার ইন্সপেক্টর (জেনারেল) রাজীব চন্দ্র নাথসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের অভিযোগ শুনে এবং আলোচনার ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়।
.png)
সমঝোতার মূল সিদ্ধান্ত
শ্রমিকদের দাবি মেনে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছে:
১. দাবিনামায় উল্লিখিত কয়েকজন ব্যক্তির চাকরি বরখাস্ত করা হয়েছে।
২. আন্দোলনে জড়িত কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা হবে না।
৩. শ্রমিকদের সঙ্গে মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্টের অসদাচরণ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৪. সার্ভিস বেনিফিট, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা, হাজিরা বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা শ্রম আইন অনুযায়ী প্রদান করা হবে।
৫. রাত ৮টার পর কাজ করলে ৫০ টাকা টিফিন বিল এবং রাত ১০টার পর নাইট বিল ১০০ টাকা প্রদান করা হবে।
৬. বছরে ৫শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং জানুয়ারি মাসে অর্জিত ছুটির টাকা প্রদান করা হবে।
৭. মাসে ৩ দিন লেটের ক্ষেত্রে ৫ মিনিট পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে।
শ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া
সমঝোতা সভার পর শ্রমিকরা জানান, তারা সিদ্ধান্তগুলোতে সন্তুষ্ট এবং কাজ শুরু করতে আগ্রহী। এক শ্রমিক বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এবার মন দিয়ে কাজ করতে পারব।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শ্রমিকদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কাজের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে দূরত্ব দূর করতে এই সমঝোতা একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতায় শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এই প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে।