মাসুদ রানা (৫২) নামে একজন বলেন, মাসখানেক আগে ৩৩ হাজার টাকা খরচ করে নতুন ব্যাটারি লাগিয়েছি ভ্যানে। কিস্তির টাকাও শোধ হয়নি। ভ্যান চালিয়েই চলত স্ত্রী-দুই সন্তানসহ চারজনের সংসার। এখন কী হবে?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোতমোড়া গ্রামে গরু, ছাগল ও ভ্যান চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ১২ দিনে বাড়ি থেকে ৩টি ভ্যান চুরি হয়েছে। এরমধ্যে গত ১৮ নভেম্বর জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মকছেদ মোল্লার ছেলে সুজন আলীর (৩২) প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভ্যানটি নিজ বাড়ি থেকে শিকল ও তালা কেটে চুরি হয়েছে। একইভাবে গত ২৬ নভেম্বর রাতে শিকল ও তালা কেটে গ্রামের মৃত আলফাজ বিশ্বাসের ছেলে হেলাল উদ্দিনের ভ্যানটি বাড়ি থেকে চুরি হয়। আর গত শনিবার রাতে মাসুদের ভ্যানটি চুরি হয়।
.png)
সুজন আলী বলেন, ধার ও ঋণ নিয়ে ভ্যানটি কিনেছিলাম। ভ্যানে করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভাঙারির ব্যবসা করতাম। এখন বেকার বসে আছি। ১২ দিনের মধ্যে ৩ জনের ভ্যান চুরি হয়েছে। তবে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েও চোর ধরা যাচ্ছে না। চুরির আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন লোকজন।
ক্ষতিগ্রস্ত হেলাল উদ্দিন বলেন, ভ্যানটি চালিয়ে যা উপার্জন হতো, তা দিয়েই চলত ছয়জনের সংসার। ভ্যান চুরির পর থেকে উপার্জন বন্ধ আছে। থানায় অভিযোগ দিয়ে বাজারে বাজারে হারানো ভ্যানটির খোঁজ করছি। কীভাবে আবার ভ্যান কিনব, তা ভাবছি এখনো।
গৃহিণী সুরাইয়া পারভীন বলেন, শাশুড়ি অসুস্থ। ঢাকায় চিকিৎসাধীন। আমি ছেলে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। স্বামী বাড়ির বাইরে ছিলেন। মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে দিনের বেলায় গোয়ালঘর থেকে ২টা বড় খাসি চুরি হয়ে গেল, যার দাম প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা আশরাফ আলী জানান, মাসখানেক আগে তার বাবা সিরাজুলের প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরুটি চুরি হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, প্রায়ই গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে মানুষ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। চুরি ঠেকাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
কুমারখালী থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগের ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে টহল টিম জোরদার করা হবে।