ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হামলা নয়, দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল আগরতলা-ঢাকা বাসটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৯, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
হামলা নয়, দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল আগরতলা-ঢাকা বাসটি
দুর্ঘটনাকবলিত বাস। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা পথে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চান্দিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাসটি ওভারটেকজনিত কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালক সামান্য আহত হন। তবে বাসের যাত্রীরা অক্ষত ছিলেন।

জানা যায়, বাসটি শনিবার সকাল ১১টার দিকে আগরতলা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বেলার ১২টার দিকে বাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চান্দিয়ারা এলাকায় আসার পর একটি ট্রাক ওভারটেক করতে চায়। এ সময় বাসটি ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে থামানোর চেষ্টা করে ও সড়কের একপাশে সরে পড়ে। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ভ্যানচালক ইব্রাহিম সামান্য আহত হয়।

এ নিয়ে ভ্যান চালক ইব্রাহিম ও শ্যামলী পরিবহনের চালক মো. আসাদুল হকের মাঝে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে একটি রেকার এসে বাস থেকে অটোরিকশাটিকে সরিয়ে দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসটিতে ভারতীয়সহ ২৬ জন যাত্রী ছিল। পরে বাসটি রাতে ঢাকায় পৌঁছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় বিভিন্ন মিডিয়া খবর প্রচার করে বলে, বাসটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে দুর্ঘটনার কবলে ফেলার জন্য ধাক্কা দেয় পণ্যবাহী একটি ট্রাক।

Advertisement

বাসচালক মো. আসাদুল হক বলেন, একটি ট্রাক ওভারটেক করতে গেলে আমি ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যাই। এ সময় পিছনে থাকা একটি অটোরিকশা ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশাটি বাসের পিছনে আটকে যায়। তাৎক্ষণিক নেমে একটি রেকার আনার ব্যবস্থা করে অটোরিকশাকে সরিয়ে নেই। বিষয়টি হাইওয়ে থানা পুলিশকেও অবহিত করা হয়। পুলিশ আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র দেখে চলে যেতে বলে। দুর্ঘটনায় বাসের কোনো ক্ষতি হয়নি কিংবা যাত্রীরা আঘাতপ্রাপ্ত হননি।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. মারগুব তৌহিদ বলেন, তেমন বড় ধরনের কিছু হয়নি। দুর্ঘটনায় অটোরিকশা চালক সামান্য আহত হন। বাসের চালক ও অটোরিকশা চালকের মধ্যে সমঝোতা করে যে যার মতো চলে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ত্রিপুরা রাজধানী আগরতলা থেকে আন্তঃদেশীর শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস চলাচল করে। দুপুরে সদর উপজেলার চান্দিয়ারা এলাকায় এই বাসটি দুর্ঘটনার কাবলে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রং দেওয়া হচ্ছে, যা  সত্য নয়। এটা নিচক একটা নরমাল দুর্ঘটনা। 

তিনি আরো জানান, এই সড়কটি ভারতীয় একটি কোম্পানি নির্মাণকাজ করছে। এই সড়কের এক লেনে যান চলাচল করে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায় সময় ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ও ডেলিভারি ম্যান কর্তৃপক্ষের লোকজন কথা বলে নিষ্পত্তি করেন। বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়া এ দুর্ঘটনা নিয়ে রং ছড়াচ্ছেন। এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা মাত্র, হামলা নয়। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!