ট্রেনে উঠা নামা করতে গিয়ে প্রায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে যাত্রীদের অভিযোগে এ তথ্য জানা গেছে। এ স্টেশনে পকেটমারদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেন যাত্রীরা অনেকটাই বিপাকে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানা সত্বেও ওইসব বন্ধ না করায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবশ্য প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা। স্টেশনসহ আশপাশে অপরাধ কর্মকাণ্ড করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধ নির্মূলে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধীদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
.png)
সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ রেলপথে চলাচলকারী ২৪ টি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে মেইল ও লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি। প্রতিদিন ওইসব রেলপথে কয়েক হাজার যাত্রী আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে ভ্রমণ করছে। তবে প্ল্যাটফর্মে যাত্রী ব্যতীত সাধারণ মানুষ প্রবেশ সংরক্ষিত থাকলেও এখানে অবাধে প্ল্যাটফর্মগুলোতে দিন-রাত ছোটাছুটি করছে অপরাধীরা।
পকেটমারেরচক্রসহ অপরাধিরা প্ল্যাটফর্মের বগি লক্ষ্য করে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনো ট্রেন স্টেশন যাত্রা বিরতি দিলে যাত্রীরা উঠা নামা করার সময় সুকৌশলে যাত্রীকে টার্গেট করে মানিব্যাগ, মোবাইল, স্বর্ণের চেইনসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। এই জংশন স্টেশনে পকেটমারদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে এক প্রকার আতঙ্ক বেড়েছে।
উপজেলা মনিয়ন্দ ইউনিয়ন থেকে আসা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, শনিবার ঢাকা যেতে আমার বড় বোন ও তার দুই ছেলেকে আন্তঃনগর উপকূল ট্রেনে উঠানোর জন্য স্টেশনে আসা হয়। ট্রেনের যে বগিতে তাদের সিট উঠার সময় প্রচুর ভিড় ছিল। কোনো রকম কষ্ট করে তাদেরকে ট্রেনে উঠানো হয়। ট্রেনে উঠার সময় কয়েকজন নারী এক সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে উঠে। সিটে গিয়ে বসার পর ব্যাগ খোলে দেখেন বোনের মোবাইল ফোন নেই। ট্রেনে উঠার সময় সেই নারীগুলোকে আর ট্রেনে দেখা যায় নি।
আখাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী বলেন, গত তিন দিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কর্ণফুলি ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছি। ট্রেনের উঠার সময় আমার প্যান্টের পকেটে থাকা দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, ট্রেনের যে বগিতে আমি উঠি তেমন ভিড় ছিল না। ওই বগিতে ১০-১২ জন যাত্রী উঠে। ট্রেনটি ছাড়ার পর দেখি আমার মোবাইল ফোন নেই। পরে অনেক খোঁজ খবর করে ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, চট্রগ্রাম যেতে মহানগর ট্রেনে উঠার সময় বেশ কয়েকজন নারী আমার সঙ্গে ট্রেনে উঠে। তখন ট্রেনে প্রচুর ভিড় ছিল। হঠাৎ করে এক নারী আমার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যায়। আমি চিৎকার শুরু করলে যাত্রীসহ প্ল্যাটফর্মের অন্যান্যদের সহযোগিতায় ২ নারীকে আটক করা হয়। এক পর্যায় রেলওয়ে পুলিশ এসে তাদের কাছ থেকে চেইন উদ্ধার করে। ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় আমি আর যেতে পারিনি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রতন মিয়া বলেন, এ স্টেশনে চোখের সামনে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে। শুধু প্রতিদিন দেখে যাচ্ছি কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিনা। ট্রেনে উঠা নামার সময় প্রায় শোনা যায় যাত্রীর মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, এই স্টেশনে পকেটমারের সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। তারা আগ থেকেই টার্গেট করে এ কাজ করছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, স্টেশনে পকেটমারসহ অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। এসব বন্ধে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। এখানে অপরাধে জড়িত কাউকে পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। স্টেশন এলাকায় অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যেকোনো মূল্যে অপরাধ নির্মূল করা হবে।