ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত সেবা 

১৩৬ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ৫৮
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২১ নভেম্বর ২০২৪
চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত সেবা 
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল। ফাইল ফটো

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ১৩৬ জন চিকিৎসকের অনুকূলে রয়েছেন মাত্র ৫৮ জন কর্মরত। ৭৮ জনের পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। 

অন্যদিকে রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরাও। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় রোগীসহ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।  

জানা গেছে, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ঝালকাঠি সদর হাসপতালে ৪০জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন। ২৬ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবুয়াল হাসান ও গাইনী বিশেষজ্ঞ মাহামুদুল হাসানসহ চারজনই ডেপুটেশনে কাজ করছেন। 

Advertisement

এছাড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১৩ জন চিকিৎসকের পদে ছয়জন রয়েছে। সাতজন চিকিৎসকের পদ শূন্য। নলছিটি উপজেলায় ৩২ জন চিকিৎসকের পদে ১২ জন কর্মরত। ২০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। রাজাপুর উপজেলায় ২৭ জন চিকিৎসকের পদে ১৬ জন কর্মরত। ১১ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। কাঁঠালিয়ায় উপজেলায় ১৮ জন চিকিৎসকের পদে ছয়জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ১২ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চারজন চিকিৎসকের পদে দুজন কর্মরত। দুটি পদ শূন্য।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাঝে মাঝে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিভিন্ন হাসপাতালের ডেপুটেশনে কাজ করেন। ঝালকাঠিতে চিকিৎসক সংকট অনেক আগে থেকেই। চিকিৎসকরা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে বরিশাল, ঢাকায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন ও অন্য অজুহাত দেখিয়ে বদলী হওয়ায় এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

১০০ শয্যার ঝালকাঠির সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৮০০ থেকে এক হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। 

এই হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীদের। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এসব রোগীদের পার্শ্ববর্তী বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে রয়েছে ওষুধ সংকটও। সব ধরনের ওষুধ নেই দীর্ঘদিন ধরে।

জেলা সদরের এই হাসপাতালের প্যাথলজিতে আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। ফলে এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হয়  রোগীদের। এতে সরকারি ধার্যকৃত টাকার চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা গুনতে হয় তাদের। 

গত ছয়মাস ধরে হাসপাতালটির এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেটিকে সচল করার কোনো পদক্ষেপ নেননি তারা। ঝালকাঠি সদর হাসপালে কেএমসি কর্ণার নেই। এনআইসিউ না থাকায় নবজাতক শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। 

এদিকে ২৫০ শয্যার জন্য ৯ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় চালু হচ্ছে না ২৫০ শয্যার কার্যক্রম। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে রোগীদের এক্স-রেসহ সব সেবা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে কির্ত্তিপাশা মিরাকাঠি গ্রাম থেকে তিনমাস বয়সী কন্যাশিশুকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান মা মমতা ডাকুয়া। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা লেগে মেয়েটার সর্দি-কাশি লেগেই আছে, কিছুতেই কমছে না। হাসপাতালে নিয়ে আসছি ডাক্তার দেখাতে কিন্তু শিশুদের কোনো ডাক্তার এখানে নেই। 

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মাইনুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠিবাসী চিকিৎসা  দেওয়ার একমাত্র কেন্দ্র ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জড়িত। এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এখানে কমদামে এক্স-রে করানো গেলেও মেশিন নষ্ট থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে করাতে হচ্ছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট লেগেইে আছে। আমরা এর সমাধান চাই।

হাসপাতালে ভর্তি সালাউদ্দিন সিকদার বলেন, শীত পড়তে শুরু করেছে। ঠান্ডাজনিত রোগের আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। মাঝে মাঝে ডাক্তার আসে আবার আসে না, এই অবস্থার মধ্যে চলছে। 

পোনাবালিয়া থেকে বৃদ্ধ মোতালেব হাওলাদারকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন ছেলে ওমর ফারুক। তার সমস্যা চোখে ঝাপসা দেখেন ও পানি ঝরে। কিন্তু এখানে চোখের ডাক্তার না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন তারা। 

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে যে সমস্যা রয়েছে শিগগিরই এসব সমস্যা সামাধান করা হবে। দ্রুত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের এক্স-রে  মেশিন চালু করা সম্ভব হবে।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি জেলায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ সংকট দীর্ঘদিনের। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা দিয়ে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। সংকট সমাধানে আশ্বস্ত করেছে তারাও। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!