বর্তমানে বাজারে কলার দাম বেশি থাকায় চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। এ বাজারের প্রত্যেক হাটবারে প্রায় ৪০ ট্রাকের মতো কলা বিক্রি হয়। যার বাজারমূল্য কোটির টাকারও বেশি। এসব কলা চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর বাজারের কলার মোকামে সরেজমিনে দেখা যায়, কলা এনে চাষিরা মহাসড়কের দু’পাশে কলার কাঁদি বিছিয়ে ও স্তূপ করে সাজিয়ে রেখেছেন। বেপারিরা কলা কিনতে চাষিদের ঘিরে দরদাম করছেন। বাজার চড়তি থাকায় চাষিরা শুরুতে বেশি দাম চেয়ে বসছেন। বেপারিরাও যথাসাধ্য দর কষাকষি করে কলা কিনছেন।
অনেক সময় দাম বলেই কলার কাঁদি ধরে বেপারিরা টানাটানি করছেন। কিন্তু আশানুরূপ দাম না বলায় চাষিরা বেঁকে বসছেন। ফলে টানাটানি করেও কোনো লাভ করতে পারছেন না বেপারিরা। ফলে চাষির মূল্যকে অনেকটা প্রাধান্য দিয়ে কলা কিনতে হচ্ছে বেপারিদের।
.png)
একাধিক বেপারি জানান, বর্তমানে প্রতি কাঁদি অনুপম কলা ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা ও চিনি চাম্পা ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সপ্তাহের রোববার ও বুধবার এ হাট বসে। এই দুই হাট থেকে প্রতি হাটবারে গড়ে প্রায় ৪০ ট্রাক কলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, টাঙ্গাইল, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রংপুর ও লালমনিরহাটসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা শহরে যায়। প্রতি ট্রাকে গড়ে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার কলা থাকে বলেও জানান বেপারিরা।
বিক্রেতারা বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা এ হাটে কলা বিক্রি করতেন। দূর-দূরান্ত থেকে হাটে পাইকাররা কলা কিনতে আসায় কৃষকরা ভালো দামও পান। দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এ কলার হাটে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়। হাটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। হাটটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নতসহ হাটের আকার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একাধিক কলা চাষি জানান, বাজার থেকে প্রত্যেক হাটবারে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ ট্রাকের মতো কলা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে। তবে কলার মূল মৌসুম আসতে এখনো বাকি। চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে এই দুই মোকামে ব্যাপক পরিমাণ কলার আমদানি হয়। ওই সময় এখান থেকে প্রতি হাটবারে শতাধিক ট্রাক কলা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায় বলেও জানান চাষিরা।
কলা চাষি অনিল চন্দ্র রায় জানান, তিনি এবার ১ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। হাটে ১০০ কলার কাঁদি নিয়ে এসেছেন। বিক্রি করেছেন ৪৫ হাজার টাকায়।
অপর কলা চাষি জলিল বিক্রি করেছেন প্রতিটি কলার কাঁদি ৩৯০ টাকা করে। ভালো মানের কলার দাম বেশি রয়েছে বলে জানান ঢাকা থেকে আসা কলা ব্যবসায়ী মো. রইস উদ্দীন তালুকদার। অপর ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দীন এসেছেন কুলিয়ারচর থেকে। তিনি বলেন, এক মাস আগে কলার দাম আরো বেশি ছিল।
কলার হাটের শ্রমিক এরশাদুল জানান, এই হাটে প্রতিদিন ট্রাক লোড করে ৮-৯শ টাকা রোজগার করতে পারি। এখানে ৬০-৭০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজিতপুরের ঐতিহ্যবাহী এ হাট ছাড়াও জেলায় ছোট-বড় আরো বেশ কয়েকটি কলার হাট রয়েছে। এখানে বিক্রি হয় জেলার বিখ্যাত বিভিন্ন জাতের কলা। কলার আবাদ বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।