ঢাকা,  শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ডাসারের শশিকর শহীদ স্মৃতি কলেজের সমস্যা সমাধানে বৈঠক

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪২, ২০ নভেম্বর ২০২৪
ডাসারের শশিকর শহীদ স্মৃতি কলেজের সমস্যা সমাধানে বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, হেফাজত ইসলামের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার লোক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওই মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি কলেজে গত ৯ নভেম্বর কিছু শিক্ষার্থী মিলে ওই কলেজের মসজিদে আজান দেওয়ার জন্য একটি মাইক লাগানোর প্রস্তুতি নেন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ৩০ থেকে ৩৫ মিলে হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আহত হন আলভী রহমান, আফজাল, হাসিবুর ও নাহিদসহ কমপক্ষে ৭ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা রয়েছে এমন অভিযোগ এনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি জানান। গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পুনরায় শিক্ষার্থীরা ওই কলেজের আজান দেওয়ার জন্য একটি মাইক লাগাতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে বহিরাগতদের কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী লিটন বিশ্বাস বলেন, মাদারীপুর থেকে কিছু ছাত্র এসে নিজেদের সমন্বয় পরিচয় দেন। এ সময় তারা স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কলেজের মসজিদে মাইক লাগাতে যান। এরই মধ্যে স্থানীয় অনেক লোকজন ও স্যাররা আসলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ডাসারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওসিকে জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের অধ্যক্ষ দূর্লাভনন্দকে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম মাসুম প্রধান গাড়িতে করে উপজেলা পরিষদের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উপস্থিতিতে ওই অধ্যক্ষ পদত্যাগপত্রে সই করেন। পরের দিন অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে।

অপরদিকে, একাংশ দাবি করেন অধ্যক্ষের কারণে ওখানকার আবাসিক ছাত্ররা নামাজ পড়তে পারেন না। এছাড়াও অধ্যক্ষ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এসব অভিযোগ এনে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এতে করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাতে ও আজ সকালে দু’পক্ষের সঙ্গে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়ামিন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে হেফাজত ইসলামের আমির আলী আহম্মদ চৌধুরিসহ ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় কলেজ এলাকায় ছাত্রদের জন্য নামাজের ঘর নির্মাণ করা হবে এবং অধ্যক্ষকে দুই মাসে ছুটি প্রদান করা হবে। অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে আবারো উত্তেজনা দেখা দেয়। হেফাজত ইসলাম কলেজ এলাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের অনুরোধে সমাবেশ বন্ধ রাখা হয়। পরে তাদের দু’পক্ষকে নিয়ে দুপুরে ডাসার উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আবারো বৈঠক করে উপজেলা প্রশাসন। বৈঠকে দু’পক্ষকেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় তার জন্য অনুরোধ করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইসরাফিল বলেন, আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম। অধ্যক্ষকে কেউ জোর করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করছেন। পদত্যাগ পত্র দেওয়ার সময় ইউএনও ও প্রশাসনের লোকজন ছিল। তাদের সামনে কেউ তাকে জোর করতে পারে না।

তবে শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দূর্লাভনন্দ দাবি করেন, যে ঘটনাটি ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত। সন্ধ্যায় ইউএনও অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে ইউএনওর সামনে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে লোকজন আমাকে ঘিরে ধরেছে এবং একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে জোর করে বাধ্য করেন ও আমাকে পদত্যাগ বলতে বাধ্য করেন। আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিনি।

এ বিষয়ে ডাসার ইউএনও রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, দু’পক্ষকে নিয়ে সমাধনের চেষ্টা চলছে। গণ্যমান্য যারা আছে তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি। সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: মাদারীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!