সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব।
গ্রেফতার জিসান রাজবাড়ী পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের কামালদিয়াকান্দি গ্রামের নুরুর ছেলে। জিসান তানভীর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি।
.png)
নিহত তানভীর শেখ রাজবাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ও পৌরসভার বিনোদপুর এলাকার বাবু শেখের ছেলে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব জানান, ১৩ নভেম্বর সকালে তানভীরের মামা আলম শেখ বাদী হয়ে সবুজকে ১ নং আসামি ও জিসানকে ২ নং আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১৭ নভেম্বর) রাত পৌনে ১১ টার দিকে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিসান পুলিশকে জানান, তিনি তানভীর শেখের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে তার দেখানো পথ অনুযায়ী সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দর মৌলভীঘাট-সংলগ্ন কবরস্থানের ভেতর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি স্টিলের সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি লোহার চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তানভীর হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
শরীফ আল রাজীব আরো বলেন, এর আগে ১৩ নভেম্বর তানভীর হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি কাজলকে ও ৮ নম্বর আসামি রহিমকে গ্রেফতার করা হয়।
স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিনোদপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বাড়ির পাশে মুন্নুর দোকানে ডিম আনতে যান তানভীর। সেখানে কিছুক্ষণ দেরি করে পৌনে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দির সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড় এলাকায় সবুজ ও জিসানসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। এতে তার পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেন। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ফরিদপুর নেয়ার পথে মারা যান তানভীর।