ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাগেরহাটে আদালতের নাজিরের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলার অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
বাগেরহাটে আদালতের নাজিরের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলার অভিযোগ
বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন শুশান্ত কুমার দাস। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাগেরহাটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির অঞ্জন কুমার দাশের বিরুদ্ধে জমি দখলে নেয়ার জন্য বসত বাড়িতে হামলা ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফকিরহাট উপজেলার চাঁদেরডোন গ্রামের শুশান্ত কুমার দাস নামে এক ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, চাঁদেরডোন গ্রামের বাসিন্দা এবং বাগেরহাট বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির অঞ্জন কুমার দাশ ও তার লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ঐ জমি দখলের জন্য বিভিন্ন সময় অঞ্জন কুমার দাশ হুমকি দিচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় ১২ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে অঞ্জন কুমার দাশ, চন্দনকুমার দাশ, বিদ্যুৎ দাশ, সংকোজ দাশ, উজ্জ্বল দাশ, সত্যজিৎ দাশ ও ইকবাল মোড়ল চাদেরঢোন গ্রামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বসত বাড়িতে হামলা করেন। গালিগালাজ করতে করতে জোরপূর্বক আমাদের ঘরে প্রবেশ করেন। তারা আমার বোনের ছেলে বালক দাশের কম্পিউটার, সিলিং ফ্যান, ওয়াইফাই রাউটার, চেয়ার, টেবিল, ৪০০ নারকেল, ১৫০ কুড়ি সুপারি, এলইডি টিভি ও মুরগির ফার্ম থেকে ৭০টি ব্রয়লার মুরগি লুটে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় অঞ্জন কুমার দাশ বলে যান, জমি না ছাড়লে এবং এসব নিয়ে মামলা করলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে।

Advertisement

পরে চুলকাঠি বাজারে থাকা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক ২০০ বস্তা সেভেন রিংস সিমেন্ট নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী শুশান্ত কুমার দাস আরো বলেন, ঘটনার পরে ফকিরহাট থানায় মামলা দায়েরের জন্য গেলে নাজির অঞ্জন কুমার দাশের প্রভাবে ফকিরহাট থানা পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেননি। বরং অঞ্জন কুমার দাশ আমার ও আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এই অবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা তার ভাই সঞ্জয় কুমার দাশ বলেন, প্রভাবশালী নাজির অঞ্জন কুমার দাশ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। চাকরি বাণিজ্য কবে অনেক টাকা কামিয়েছেন। অনেককে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছেন। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত আনতে গেলে তাদেরকে ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়ায় ঢাকার অনেক মানুষকে ক্ষমতার প্রভাবে হয়রানি করেছেন। বর্তমানে চারতলা বাড়ির কাজ চলমান রয়েছে। তার আত্মীয়দের নামে এবং বেনামে তার অঢেল টাকা রয়েছে। প্রভাবশালী নাজির অঞ্জন কুমার দাশের অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই এবং সেই সঙ্গে আমরা যাতে আমাদের পৈত্রিক জমি সুষ্ঠুভাবে ভোগ দখল করতে পারি সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাজির অঞ্জন কুমার দাশ বলেন, আমি কারো বাড়িতে হামলা করিনি। কারো জমি দখলের চেষ্টাও করিনি। তাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তাই এসব মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: বাগেরহাট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!