ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছুরিকাঘাতে যুবক হত্যা, মূল হোতাসহ ২ জন গ্রেফতার

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
ছুরিকাঘাতে যুবক হত্যা, মূল হোতাসহ ২ জন গ্রেফতার
গ্রেফতার স্বপন চৌধুরী। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আলোচিত স্বাধীন হত্যার ঘটনায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতা স্বপন চৌধুরীসহ এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে জেলার নবীনগর থানার নারুই গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের রোকন উদ্দিনের ছেলে স্বপন চৌধুরী ও শরীফ চৌধুরী। এ ঘটনায় স্বপন চৌধুরীর স্ত্রী ইতি বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নিয়েছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমোদাবাদ গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে স্বাধীন মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে স্বপন। রাতেই নিহত স্বাধীন মিয়ার বাবা ফজল মিয়া বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

Advertisement

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজমপুর মসজিদের সামনে একই ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের স্বপন চৌধুরী ও স্বাধীন মিয়া তুচ্ছ ঘটনায় কথাকাটি হয়। এক পর্যায় স্বপন চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটে পড়েন। স্থানীয় লোকজনরা দ্রুত স্বাধীনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে  নিয়ে আসেন।  সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার লুৎফল আমিন চৌধুরী বলেন, আমি মাছের প্রজেক্ট দেখতে যাচ্ছিলাম। এসময় আজমপুর রেলওয়ে কলোনি মসজিদের সামনে দুজন ধস্তাধস্তি করতে থাকে। এক পর্যায় তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করি।  কিছুক্ষণ পর স্বপন চৌধুরীর পক্ষের আরো ৪-৫ জন যুবক এসে স্বাধীনকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে স্বপন চৌধুরী স্বাধীনকে ছুরি দিয়ে পেটে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক আমি থানায় অবগত করি এবং স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্বাধীন একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ফয়জুন্নেছা আমিন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৃত অবস্থায় ওই যুবককে বেশ কয়েকজন লোক হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। নিহতের পেটে ছুরিকাঘাত রয়েছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

আখাউড়া থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. ছমি উদ্দিন বলেন, নিহত স্বাধীন মিয়ার বাবা ফজল মিয়া রাতে ৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। তথ্য প্রযুক্তি এবং আমাদের সোর্সের মাধ্যমে রাত ৩টার দিকে নবীনগর থানার নারুই গ্রাম থেকে এজহার নামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। স্বপনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!