জাহানারা বেগম বরগুনা সদর উপজেলার ঘটবাড়িয়া গ্রামের আবদুল লতিফ ফরায়েজীর স্ত্রী। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া বাজার থেকে তাকে নিয়ে যান তার ছোট মেয়ে হাসি আক্তার এবং বোনজামাই মোস্তফা মির্জা।
জানা গেছে, গত ১৫-২০ দিন ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া বাজারে জাহানারা বেগমকে এলোমেলো ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। অসহায় বৃদ্ধাকে দেখে জাঙ্গালিয়া বাজার কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম রিপনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নাম-পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না জাহানারা। অগোছালোভাবে কথা বলছিলেন। শুধু বোঝা যাচ্ছিল ‘বরগুনা এবং ঘটবাড়িয়া’ শব্দগুলো। সেই কথাগুলো দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। এরপর বরগুনা থেকে তার স্বজনেরা যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
.png)
এসময় জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তৌফিকুল ইসলাম, বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, স্কুলশিক্ষক শফিকুল ইসলাম এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাহানারা বেগমের বোনজামাই মোস্তফা মির্জা জানান, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে জাহানারা বেগম তার তিন বছরের ছোট ছেলে (বর্তমান বয়স ২৮) সাইদুলকে নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় রওনা হন। ভোরে সদরঘাটে লঞ্চ থেকে নেমে ছোট ছেলেকে রেখে টয়লেটে যান। সেখান থেকে বের হয়ে আর ছেলেকে পাননি। এরপর থেকে তাকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আত্মীয়-স্বজনদের বাসাসহ সব যায়গায় খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দেয় পরিবার।
১০ বছর আগে নিখোঁজ ছেলে সাইদুলকেও খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার। এখন জাহানারা বেগমকেও খুঁজে পাওয়ায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে।
দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছোট মেয়ে হাসি বেগম। তিনি বলেন, মাকে খুঁজে পেয়ে যেন আমার পৃথিবী খুঁজে পেয়েছি। আমাদের ছোট রেখেই হারিয়ে যান মা। এখন আমরা সংসার করছি। ধরেই নিয়েছিলাম মায়ের মুখটি আর কখনো দেখতে পাব না। এত বছর পর মাকে খুঁজে পাওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
জাঙ্গালিয়া বাজার কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন বলেন, ১৫-২০ দিন ধরেই এই মহিলা আমার দোকানের সামনে অবস্থান করছেন। ৫-৬ দিন ধরে আমার বাড়িতেই খাওয়া-দাওয়া করেছেন। এত বছর পর জাহানারা বেগম তার পরিবার খুঁজে পাওয়ায় আমরাও আনন্দিত।