বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নড়াগাতী থানার পুটিমারি গ্রামের পাশের ধানক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হামিদা খানম কালিয়া উপজেলার পুটিমারি গ্রামের সাহানুর শেখের মেয়ে।
শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশে হত্যার হুমকি দেওয়া একটি চিরকুট পেয়েছিলেন স্বজনরা।
.png)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে হামিদা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয়। সে সময় হামিদার মা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। পরে বিকেল থেকে তাকে বাড়ির লোকজন খোঁজ করে পায়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধানখেতের মধ্যে হামিদার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় রশি দিয়ে তার হাত বাঁধা এবং কচুরিপানা দিয়ে মরদেহের কিছু অংশ ঢাকা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
হামিদার বাবা সাহানুর জানান, বুধবার রাতে কেউ তাদের বাড়ির পাশে একটি চিরকুট ফেলে যায়। হুমকি দেওয়া ওই চিরকুটে লেখা ছিল, তোরা যদি খুদ চালান দিস তাহলে মনে রাখবি তোর সন্তানদের মধ্যে একজনকে হারাবি বা তোর ভাইয়ের মেয়েকে, এটা আমার শেষ কথা’ চিঠির শেষে মারা যাওয়া হামিদা খানম ও তার বোন শামিমা আক্তারের নাম লেখা ছিল।
তিনি আরো জানান, সম্প্রতি আমাদের বাড়িতে কয়েকবার আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে খুদ চালান (কবিরাজের মাধ্যমে চালের খুদ মন্ত্র পড়ে খেতে দেওয়া) দেওয়ার কথা প্রচার করেছিলাম। এই ভয়ে কে বা কারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।
নড়াগাতী থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।