ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পি.এন. কম্পোজিট লিমিটেড বন্ধ, শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৬, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
পি.এন. কম্পোজিট লিমিটেড বন্ধ, শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ
পি. এন. কম্পোজিট লিমিটেডের সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর আমবাগ এলাকায় অবস্থিত পি. এন. কম্পোজিট লিমিটেডের সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) থেকে কারখানার গার্মেন্টস ডিভিশন, প্রিন্টিং এবং এমব্রয়ডারি সেকশনের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। মূল ফটকের সামনে এই বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ফ্যাক্টরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া কারখানার নিরাপত্তা সেকশন, প্রশাসন, এইচআর, কমপ্লায়েন্স, ফায়ার সেফটি, মেইনটেনেন্স এবং অফিসের কার্যক্রম এই বন্ধের আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত অক্টোবরে ১৮ দফা দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেছিল, যার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি, হাজিরা বোনাস, রাত্রিকালীন কাজের মজুরি ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল। আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে শ্রমিকদের ছবি ও পরিচয়পত্রসহ বহিষ্কারের নোটিশ টাঙানো হয়, যা শ্রমিকদের মাঝে নতুন করে অসন্তোষের সৃষ্টি করে।

Advertisement

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হচ্ছে। গত দুইদিনে আবারো শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ রাত ১২টায় এক ধরনের ‘সতর্কতামূলক’ নোটিশ টাঙিয়ে দেয়, যা পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তোলে।

অনেকে মনে করছেন, কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ শ্রমিকদের মনোবল ভাঙার জন্য একটি কৌশল এবং এটি ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষের সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে এবং শ্রমিকেরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দ্রুত জানানো হবে। তবে শ্রমিকদের মাঝে যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!