ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়ায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৫:০৬, ১০ নভেম্বর ২০২৪
আখাউড়ায় হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা
আখাউড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে ঘুরছে বিশালদেহী হাতি -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে ঘুরছে বিশালদেহী হাতি। হাতির পিঠে বাদশাহী কায়দায় বসে আছেন মাহুত। সেখান থেকে হাতিকে চলার দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। হাতি এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছে। আবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে শুঁড় তুলে দোকানিকে সালাম দিচ্ছে। হাতি দেখে কেউ দিচ্ছেন টাকা, আবার কেউ বা দিচ্ছেন ফল-ফলাদি।

কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত শুঁড়ের মাথায় টাকা দেওয়া না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দোকানের কাছ থেকে হাতি যেন নড়ছে না। কারো কাছ থেকে হাতি ১০ টাকার নিচে যেন নিচ্ছে না। প্রতি দোকান থেকে এভাবে নিচে ১০ টাকা থেকে শুরু করে উপরে ২০ টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়। হাতি ঘুরতে দেখে পথচারীসহ সাধারণ লোকজন ভিড় করছেন তা দেখার জন্য। হাতি রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সড়ক বাজার এলাকায় এক প্রকার যানজট সৃষ্টি হয়। পৌর শহরের খড়মপুর, সড়ক বাজার, স্টেশন রোড এলাকায় ঘুরে হাতি দিয়ে চাঁদা তোলা হয়। হাতি দিয়ে এমন অভিনব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন দোকানিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী মো. লিয়াকত জানান, হঠাৎ দেখতে পান তার ফলের দোকানের সামনে বড় আকারের একটি হাতি দাঁড়িয়ে আছে। হাতি দেখে প্রথমে তিনি আঁতকে উঠেন। পরে হাতিকে ফল তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে ১০ টাকা দেওয়ায় হাতি চলে যায়।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেন বলেন, হাতিটিকে দোকানের কাছে দেখে ৫ টাকা দিতে চাইলে সে টাকা তোলেনি। পরে ১০ টাকা দেওয়ায় হাতি নিয়ে চলে যায়।

কলা ব্যবসায়ী জামশেদ বলেন, হাতি কলা দেখে এক টানে ৭-৮টি কলা নিয়ে যায়। দোকানে অনেক কলা ফেলে নষ্ট করে ফেলেছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস পরপর সড়ক বাজার এলাকায় হাতি দেখতে পাওয়া যায়। হাতি দিয়ে দোকান থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এটা যেন এক প্রকার চাঁদাবাজিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া শহরে হাতি নিয়ে আসায় যানজট সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

মো. শরীফুল ইসলাম নামে এক পথচারী বলেন, বাজারে হাতি দেখতে পেয়ে আমার ছেলে সুমন হাতিকে ১০ টাকা তুলে দেয়। পরে হাতির সামনে একটি সেলফি তোলে। সে হাতি দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে।

এদিকে কথা হয় হাতির মাহুত হেলাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাতিটি লালনপালন করছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এখানে এসেছেন। হাতি নিয়ে কসবায় যাবেন। তাই এখানে নিয়ে আসা। রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকে খুশি হয়ে টাকা ও বিভিন্ন রকমের ফল তুলে দেন। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় হাতি নিয়ে গেলে বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে অনেকে টাকা দেন। কোনো সময় দেখা যায় ২-৩ হাজার টাকার মতো পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে তিনি হাতির খাবার খরচ চালান এবং তার কিছু আয় হয়।

তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে টাকার জন্য জোর করা হয় না। হাতি দেখলে সবাই খুশিমনে টাকা দেওয়া ‘চাঁদাবাজি’ হতে পারে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!