ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আসলে যা ঘটেছিল চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:২৭, ৬ নভেম্বর ২০২৪
আসলে যা ঘটেছিল চট্টগ্রামে
সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার হাজারি গলি এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঐ এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরের দামপাড়ায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটককৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হস্তান্তরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হাজারি গলিসহ নগরের অন্যান্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement

এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, মাঠপর্যায়ে আমরা গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। সে অনুযায়ী আমরা আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করবো। সরকার পতনের পর যেসকল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে; সেসব সমাবেশে যেন শান্তি বিঘ্নিত না হয়, আমরা সেজন্য সরকারের গাডলাইন অনুযায়ী কাজ করেছি।

বুধবার সকালে হাজারি গলি এলাকায় স্বর্ণ ও ওষুধসামগ্রী বিক্রির বেশিরভাগ দোকান সিলগালা অবস্থায় দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, যেহেতু ঐ এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যের ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দোকানগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বেড়াচ্ছি। অতিসত্বর তদন্তকার্যক্রম শেষ করে দোকানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।

কী ঘটেছিল সেখানে

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় ওসমান আলী নামে একজন ব্যক্তির ইসকনবিরোধী একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হাজারি লেন এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ জন দুষ্কৃতিকারী হাজারি লেনে ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ছয়টি টহল দল সেখানে পৌঁছায়।

তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জানমাল রক্ষা এবং মবজাস্টিস রোধে যৌথবাহিনী ওসমান আলী ও তার ভাইকে উদ্ধার করে। উত্তেজিত জনতাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও একপর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। দুর্বৃত্তরা এ সময় যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে জুয়েলারির কাজে ব্যবহৃত এসিড হামলা চালায় এবং ভারী ইটপাটকেলসহ ভাঙা কাঁচের বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। এতে পাঁচ সেনাসদস্য ও সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত সেনাসদস্যরা বর্তমানে চট্টগ্রামে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে ইট ছুঁড়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। উদ্ধার অভিযানের পর দুর্বৃত্ত শনাক্তকরণে যৌথবাহিনীর ১০টি টহল দল আনুমানিক ৯টার দিকে ঐ এলাকায় গেলে লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা ফের যৌথবাহিনীর ওপর এসিড সদৃশ ছুঁড়তে শুরু করে। এ সময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৮০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের এডিসি (জনসংযোগ) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজসহ বিজিবি ও র‍্যাব প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!