শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিকতা।
রাধাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আয়োজনে ঘাঘর নদীর খেজুরবাড়ি থেকে মান্দ্রা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নদীর দুপাশে হাজার হাজার মানুষ এই নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। কোটালীপাড়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশত বাহারি বাচারী নৌকা এ নৌকাবাইচে অংশগ্রহণ করে।
.png)
নদীটির খেজুরবাড়ি থেকে শুরু হয়ে এক একটি ছোঁপ (কুচ) মান্দ্রায় এসে শেষ হয়। এসময় নদীর দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার জনতা হাতে তালি ও হর্ষধ্বনি দিতে থাকে। এছাড়াও নৌকাবাইচ কেন্দ্র করে নদীর দুপাশে বসে গ্রামীণ মেলা। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় বাদাম, চানাচুর, মুড়ি মুড়কির ভাসমান দোকান নিয়ে অনেকেই বেচাকেনা করেন।
মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা থেকে আগত সুদেব বিশ্বাস বলেন, আমি আমার পরিবার নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছি। অনেকদিন পরে উৎসবমুখর পরিবেশে এই নৌকাবাইচ দেখলাম।
উপজেলার তারাশী গ্রামের মনু দাড়িয়া বলেন, আমি একটি ট্রলারে (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে এসেছি। আমাদের সঙ্গে শিশুরাও এসেছে। ওরা জীবনে এই প্রথম নৌকাবাইচ দেখল। এই বাইচ দেখে এরা খুবই আনন্দিত।
মনিরুজ্জামান জুয়েল নামের একজন বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলায় একসময় অর্ধশত স্থানে দুর্গা, লক্ষ্মী, কালী ও বিশ্বকর্মা পূজায় নৌকাবাইচ হতো। কালের বিবর্তনে খাল নদী দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ হারিয়ে যেতে বসেছে। বিনোদনমুখী এই নৌকা বাইচকে ধরে রাখার জন্য আমি উপজেলার নদী ও খাল দখলমুক্ত এবং খননের দাবি জানাচ্ছি।
প্রতিযোগিতা শেষে রাধাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে বাচারী নৌকাগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এসময় রাধাগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।