জানা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বি.বি আফসার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একতলা ভবনের ওপর আরো তিনতলা ভবন বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে প্রায় দেড় কোটি টাকা চুক্তি মূল্যে নির্মাণাধীন এ ভবনটির কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল ২০২১ সালের জুলাই মাসে। কিন্তু চলতি বছরের ডিসেম্বরেও শেষ হবে না কাজ। ফলে বিদ্যালয়টির চারশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্খিত পাঠদান। ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় অভিভাবকও সাধারণ মানুষের মনে।
বি.বি আফসার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ধিত অংশের ৩ তলায় ৯টি কক্ষ নির্মাণের কাজ পাঁচ বছর ধরে চলছে। কবে শেষ হবে কেউ জানে না। মূল ঠিকাদার কখনোই এখানে আসেনি। নিচু টিনশেড ভবনে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
.png)
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে ভবনটির ঠিকাদারি কাজ কয়েকদফা হাত বদল বা বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে কাজ করছেন বিদ্যালয় সংলগ্ন মো. হাসান হাওলাদার। ভবনটি নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাজটি নিয়েছি মো. মোতালেব হোসেনের কাছ থেকে। তিনি আমার আত্মীয়। তার সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ছোট ছোট রুমে গাদাগাদি করে ক্লাস করানো হচ্ছে। এসব রুমে ক্লাস করতে তাদের ভালো লাগে না।
দ্বিতীয় ঠিকাদার ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন বলেন, কাজটি নিয়ে অনেক লস হয়েছে। একটি প্রতারক চক্র কিছু টাকা আত্মসাৎ করেছে তাই কাজটি শেষ করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার টার্গেট রয়েছে।
প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাগেরহাটের মেসার্স মোস্তাফিজ ট্রেডার্স। ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের বাগেরহাট জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাফিজ আকতার বলেন, ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আগামি বছরের (২০২৫ সালের) ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে হস্তান্তর করার চেষ্টা চলছে।