মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম অলি উল্লাহর আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, শনিবার (২৬ অক্টোবর) তাদের গ্রেফতারের পর আদালতে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই মোমিনুল ইসলাম বলেন, তাহসীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার হেলাল ও অপুর ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল আদালতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেলালের ৩ দিন ও অপুর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
.png)
এসআই মোমিনুল আরো বলেন, দুজনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজনই প্রধান আসামি সাজ্জাদের সহযোগী। সাজ্জাদকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া জাগরণী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তাহসীন। এ সময় কালো একটি মাইক্রোবাসে দলবল নিয়ে গিয়ে তার ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি। এতে ঘটনাস্থলেই তাহসীনের মৃত্যু হয়।
তাহসীন একই থানার চার নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরপুল এলাকার দিলা মিস্ত্রি বাড়ির মোহাম্মদ মুছার ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন ২২ অক্টোবর সাজ্জাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন মোহাম্মদ মুছা।
এরপর ২৫ অক্টোবর নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকা ও হাটহাজারী-রাউজান উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হেলাল ও অপুকে এবং ২৬ অক্টোবর চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া এলাকা থেকে এমরানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এমরানকে গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, তাহসীনের ব্যাপারে আসামিদের কাছে তথ্য সরবরাহ করেন এমরান। ঘটনার দিন ঐ এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়- মাইক্রোবাসে আসামিরা ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের সঙ্গে কথা বলেন এমরান। জিজ্ঞাসাবাদেও এমরানও বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
একটি সূত্র জানায়, এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করতেন তাহসীন। গ্রেফতারকৃত হেলালও একই ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার শেল্টারে ব্যবসা করতেন তাহসীন। তাই তাহসীনের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতির সহযোগিতা নেন হেলাল। আবার সাজ্জাদ ও সরোয়ারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।
সাজ্জাদ হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর এলাকার মোহাম্মদ জামালের ছেলে। তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। গত ১৭ জুলাই অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।