ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গুলি করে যুবক হত্যায় গ্রেফতার ২, এখনো অধরা ‘বুড়ির নাতি’

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৫১, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
গুলি করে যুবক হত্যায় গ্রেফতার ২, এখনো অধরা ‘বুড়ির নাতি’
গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ হেলাল ও ইলিয়াছ হোসেন অপু ইনসেটে সাজ্জাদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ফিল্মিস্টাইলে মাইক্রোবাসে এসে গুলি করে যুবক আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের এডিসি (জনসংযোগ) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। এর আগে, শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকা এবং হাটহাজারী-রাউজান উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মোহাম্মদ হেলাল ও ইলিয়াছ হোসেন অপু। হেলাল মামলাটির এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

Advertisement

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে রাউজান উপজেলার জলিল নগর বাসস্টেশন (মদের মহাল) এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলায় অভিযান চালানো হয়। পরে বিকেলে পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ইলিয়াছ হোসেন অপুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনিও এ ঘটনায় জড়িত।

এডিসি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, চান্দগাঁও থানা এলাকায় গুলিতে আফতাব উদ্দিন তাহসীন হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার মূলহোতা সাজ্জাদসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে, গত সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। চান্দগাঁও থানার অদূরপাড়া জাগরণী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তাহসীন। এ সময় কালো একটি মাইক্রোবাসে দলবল নিয়ে গিয়ে তার ওপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি। এতে ঘটনাস্থলেই তাহসীনের মৃত্যু হয়।

তাহসীন চান্দগাঁও থানার চার নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরপুল এলাকার দিলা মিস্ত্রি বাড়ির মোহাম্মদ মুছার ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সাজ্জাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন মোহাম্মদ মুছা।

একটি সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করতেন তাহসীন। গ্রেফতারকৃত হেলালও একই ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার শেল্টারে ব্যবসা করতেন তাহসীন। তাই তাহসীনের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতির সহযোগিতা নেন হেলাল। আবার সাজ্জাদ ও সরোয়ারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের।

সাজ্জাদ হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর এলাকার মোহাম্মদ জামালের ছেলে। তিনি বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। গত ১৭ জুলাই অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেফতার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: চট্টগ্রাম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!