ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
শ্রীপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে আল-হেরা নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গাইনি চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

নিহত প্রসূতি হলেন শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসমত আরা বেগম (৩৮)।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুরের ইউএনও সজীব আহমেদ বলেন, ভুল চিকিৎসার প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগে এনে হাসপাতাল ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Advertisement

জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আল-হেরা হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা এক গাইনি চিকিৎসককে খুঁজছেন। স্বজনরা লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালান অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতালের ফার্মেসিতে। এ ছাড়া নিহত প্রসূতির মরদেহবাহী আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল ফটকে রেখে অবস্থান নেন স্বজনরা।

নিহত প্রসূতির স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ইসমত আরাকে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের গায়নি বিশেষজ্ঞ আয়েশা সিদ্দিকাকে দেখাই। ওই চিকিৎসক স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। চিকিৎসক জানান স্ত্রীর উচ্চরক্তচাপ রয়েছে চিকিৎসা দিতে হবে।

স্ত্রী ইসমত আরাকে আল-হেরা হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসা শুরু করা হয় বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক জানান, আমার স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পরবর্তীতে হাসপাতালে বিল পরিশোধ করে অ্যাম্বুলেন্স করে ময়মনসিংহের পথে রওনা হই। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় একটি স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি চলছিল না। আমার স্ত্রীর কোনো ধরনের নড়াচড়া ছিল না। 

শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আমার স্ত্রীকে দেখেই জানান অনেক আগেই সে মারা গেছে। আলহেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য আমার স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় অন্য হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে আমাকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমি অনেকবার বলেছি একজন নার্স দেন সঙ্গে, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেয়নি। কারণ ওরা তো জানত আমার স্ত্রী মারা গেছে। তাহলে আমার সঙ্গে এ কেমন প্রতারণা করল? আর আমার স্ত্রীর শরীরে কী ইনজেকশন দিল যার কারণে আমার স্ত্রী মারা গেল?

আল-হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপককে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি। অভিযোগ ওঠা গায়নি বিশেষজ্ঞ আয়েশা সিদ্দিকাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, বিষয়টি রাতেই শুনেছি। স্বজনদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রোগীর স্বজনদের হাসপাতাল ভাঙচুর না চালানোর জন্য বলা হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!