ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের ভিড়

মো. আল হাবিব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ১২ অক্টোবর ২০২৪
টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের ভিড়
টানা ৪ দিনের ছুটি কাটাতে টাঙ্গুয়ার হাওরকে বেছে নিয়েছেন পর্যটকরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাওর ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সুনামগঞ্জে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জেলায় পর্যটকদের আগমনও বেড়েছে। দুর্গোৎসবের ছুটি রোববার, মাঝখানে শুক্র-শনি সরকারি ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে বৃহস্পতিবার ছুটি পাওয়ায় ৪ দিনের ছুটি মিলেছে। এই লম্বা ছুটিতে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন পর্যটকরা।

এদিকে, মঙ্গলবার ভোক্তা অধিকারের সেমিনারে জেলা প্রশাসক হাউসবোটসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়েছেন, কোথাও পর্যটকরা প্রতারণার শিকার হলে বা ভোক্তা হিসেবে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে, ওই বোটকে চলতে দেওয়া হবে না টাঙ্গুয়ায়।

টাঙ্গুয়ায় আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হাউসবোট মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাঙ্গুয়ায় চলাচলকারী জলছবি, রঙ্গিলা বাড়ই, হাওরের সুলতান, রূপকথা, সিন্দাবাদ তরী, মায়াবতী, নবাব দ্য হাওরভিলা, জলেরগান, জলনিয়াবাস গাংচিলসহ ৯০টি হাউসবোট ও ছোট বড় প্রায় ২০০ পর্যটকবাহী বোটের সবগুলোই বুকিং হয়ে গেছে। নতুন করে কেউ চাইলেও এ সময়ে হাউসবোট বুকিং দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

Advertisement

রাজধানী ঢাকার বনানী থেকে আসা সালমান মুর্শেদ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে শনিবার এসেছেন সুনামগঞ্জ শহরে। জানালেন, একসঙ্গে ৩০ জন মিলে হাউসবোট আগে থেকেই কথা বলে রেখেছেন তারা। দুই দিন-দুই রাত টাঙ্গুয়ার হাওর এবং আশপাশের শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক) ঘুরবেন তারা। খাওয়া-দাওয়াসহ সবকিছুই হাউসবোটের দায়িত্ব। সেভাবেই প্যাকেজে কথা বলেছেন তারা।

বৈষ্ণব কবি রাধারমণ, মরমি কবি হাসন রাজা, জ্ঞানের সাগর দুর্বিন শাহ, বাউলসম্রাট শাহ আব্দুল করিমসহ অসংখ্য সাধকের জন্মস্থান সুনামগঞ্জ। টাঙ্গুয়ার হাওর, লাউড়ের গড়, শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রী লেক), হাসন রাজার বাড়ি, বারেকের টিলা, শিমুলবাগান, টেকেরঘাট-বাঁশতলা-মহেষখলা স্বাধীনতা উপত্যকা, পণতীর্থ, শাহ আরেফিনের মাজারসহ পর্যটক আকর্ষক নানা পাহাড়ি লেক ঘুরে দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন পর্যটকরা। তারা কোথাও যেন হয়রানির শিকার না হন; এ বিষয়ে মঙ্গলবার কথা উঠে জেলার ভোক্তা অধিকারের সেমিনারে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকরা এখানে এসে হাউসবোট ব্যবসায়ীসহ পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভালো আচরণ পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ প্রায়ই শুনছেন তারা। অনলাইনে বুকিং নেয়ার সময় হাউসবোট মালিকরা যে অফার দিচ্ছেন, বাস্তবে সেভাবে সেবা দিচ্ছেন না। বুকিংয়ের সময় খাবারের যে ম্যানু’র তালিকা পর্যটকদের দেওয়া হয়, পরিবেশনের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটে। বুটে যেসব সুবিধা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়, বাস্তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটি থাকে না। পর্যটকরা এখানে আসার জন্য হাউসবোট বুকিং দিয়ে কোনো কারণে না আসতে পারলে বুকিং ক্যান্সেল করলেও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ তারা শুনেছেন। এ বিষয়ে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবেন বলে সভায় জানান।

সভায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান। অন্যথায় জেলার বড় একটি শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন।

পর্যটন উদ্যোক্তা ‘মহাজনেরনাও’ এর স্বত্বাধিকারী মাসুক উর রহমান বলেন, পূজার ছুটিতে জমে উঠেছে টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রিক পর্যটন। শরতের শেষ চলে এলেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে হাওরে ভরপুর পানি থাকার সংবাদে পর্যটকরাও টানা চার দিনের ছুটি উপভোগে বেছে নিয়েছেন টাঙ্গুয়ার হাওরকেই। লম্বা ছুটিতে দেশের অন্যান্য গন্তব্যে আবাসন, খাবার ও সাইটসিয়িংয়ে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউজবোট কেন্দ্রিক পর্যটনে আবাসন, খাবার ও সাইটসিয়িং সবকিছুই এক হাউজবোটে থেকেই পাওয়া যায়। আমরা পুরো বিষয়টি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। আমার বোটের প্রতি কোনো পর্যটক যেন বিরাগভাজন না হন, সেটি কঠোরভাবে মেইনটেইন করছি। বুকিং ক্যান্সেল কীভাবে করা হবে, সেটিও আগেই পর্যটকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ হাউজবোট মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হাসানুর রহমান উল্লাস জানান, এবারের ছুটিতে অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্ভুক্ত ৯০টি হাউজবোটসহ প্রায় ২০০ হাউজবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান পর্যটকদের সেবা দিচ্ছে। এ মুহূর্তে কোনো বোটে বুকিং নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ খাতে জড়িত উদ্যোক্তাসহ প্রায় দুই সহস্রাধিক পর্যটনকর্মী আন্তরিকভাবে পর্যটকদের সেবা দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, কোনোভাবেই পর্যটক হয়রানি বা তাদের অভিযোগ সহ্য করা হবে না। টাঙ্গুয়ার হাওরে কতগুলো হাউসবোট বা নৌকা চলবে, কীভাবে চলবে, কোন কোন এলাকা দিয়ে চলতে পারবে, কোন এলাকা দিয়ে চলতে পারবে না, পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের কী কী দায়িত্ব পালন করতে হবে- এসব বিষয়ে শিগগিরই নতুন করে নীতিমালা তৈরি হবে। আলাদা সভা করে এ নিয়ে আলোচনা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্যকারীদের হাওরে চলতে দেওয়া হবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: সুনামগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!