ভোলার লালমোহনের ডাকবাংলো ব্রিজ থেকে দেবীরচর বাজার সড়কের সাতবাড়িয়া খালের ওপরের ব্রিজের সংযোগ সড়কটির নিচ দিয়ে এমন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়কটি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল সড়কের মধ্যে একটি। ভোলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতার এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন জানান, প্রায় দুই মাস আগে প্রবল বৃষ্টির কারণে সাতবাড়িয়া ব্রিজের সংযোগ সড়কের পশ্চিম পাশের অংশের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে অধিকাংশ স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওপর থেকে দেখলে বিষয়টি অনেকেই ধারণা করতে পারবেন না। তবে সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছোট, মাঝারি এবং ভারী যানবাহন চলাচল করে।
.png)
তিনি আরো বলেন, আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এসব যানবাহন চালকদের সতর্ক করতে ওই গর্তের স্থানে লাল কাপড় টানিয়ে দিয়েছিলাম। তবে কিছুদিন আগে বাতাসের কারণে কাপড়টি উড়ে গিয়েছে। গর্ত হওয়ায় স্থানটি অতিদ্রুত মেরামত না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওই সড়ক দিয়ে গত ২০ বছর ধরে বালুবাহী ট্রাক চালান মো. কামাল। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন এই সড়ক দিয়ে ট্রাক চালানোর কারণে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া গর্তের বিষয়টি জানি। যে কারণে এখান দিয়ে ট্রাক চালানোর সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করি। তবে কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে নিচে বিশাল গর্তের কারণে সড়কটি ওপর থেকে দিনদিন দেবে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আর কয়েকদিন থাকলেই সড়কটি ধসে পড়তে পারে। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কের এই স্থানটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
লালমোহন ডাকবাংলো ব্রিজ থেকে দেবীরচর বাজার সড়কের অটোরিকশাচালক মো. জাকির এবং হজরত আলী বলেন, আমরা নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে অটোরিকশা চালাই। সম্প্রতি ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের নিচে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ যাত্রীও এই গর্তের কথাটি জানেন। এতে করে এখান দিয়ে যাতায়াতের সময় সকলেই ভীষণ আতঙ্কিত থাকি। মনে হয় এই বুঝি ধসে পড়ছে সড়কটি! তাই সব ধরনের যানবাহন চালক ও যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাব শিগগিরই যেন গর্ত সৃষ্টি হওয়া স্থানটি মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ভোলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, যানবাহন চালক, যাত্রী এবং পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে খুব শিগগিরই ওই স্থানটি পরিদর্শন করে মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।