মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।
এর আগে, সাইদুলকে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটনের ভাষানটেক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
গ্রেফতার মো. সাইদুল ইসলাম নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার চক লেঙ্গুড়া গ্রামের মো. শামসুদ্দিনের ছেলে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, মামলার ভিকটিম মো. ইমন সম্পর্কে মো. সাইদুল ইসলামের প্রতিবেশী ভাগ্নে। আসামি ও ভিকটিম একই বাড়িতে বসবাস করতো। ভিকটিমের বাবা প্রবাসী হওয়ায় তার পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায় আসামি প্রায়ই সহযোগিতা করে আসছিল। সেই সুবাদে ইমনের পরিবারের সঙ্গ তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিশু ইমনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় সাইদুল বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে। গত ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ইমনকে দোকানে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে অপহরণ করেন।
সাইদুল ইসলাম ভিকটিমের মায়ের কাছে ফোন করে নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে ও কাউকে ঘটনার বিষয়ে কিছু বললে ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জোগাড় করতে না পারায় সাইদুল ইমনকে হত্যা করে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় ইমনের মা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত গত ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে মৃত্যুদণ্ড রায় প্রদান করেন।
লে. কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, গ্রেফতার সাইদুল ইসলাম শিশু ইমন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেকে আত্মগোপন করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটনের ভাষানটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কোণাবাড়ী গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।