ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘সড়ক’ যেন গলার কাঁটা

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)
প্রকাশিত: ১৫:১৮, ৬ অক্টোবর ২০২৪
‘সড়ক’ যেন গলার কাঁটা
গোপালপুর-রামপুর সড়কের বেহাল দশা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গোপালপুর-রামপুর সড়ক। সড়কটির ৮ কিলোমিটার অংশজুড়ে বেহাল দশা। অধিকাংশ স্থান খানাখন্দ আর বড় গর্তে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যাত্রীসাধারণসহ পরিবহন চালকরা।

জানা যায়, কেন্দুয়া-নেত্রকোণা মহাসড়কের রামপুর থেকে গোপালপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার একমাত্র সড়ক হওয়ায় বলাইশিমুল, দলপা, আশুজিয়া ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোণা সদর উপজেলা এবং আটপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের অবলম্বন এ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে গোপালপুর কলেজ, গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রামপুর আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়, আশুজিয়া জি কে ইন্সটিটিউট, বালিগঞ্জ বাজার, রাজিবপুর বাজারসহ বেশ কিছু মাদরাসা ও অসংখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে চলাচল করতে হয়। একমাত্র সড়ক হওয়ায় ট্রাক, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস প্রতিনিয়ত চলাচল করলেও অনেক যানবাহন এরই মধ্যেই কমে গেছে।

ফলে যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল কলেজ, স্কুল ও মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও ব্যবসায়ীসহ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাস্তাটি সংস্কার কাজে নানা অনিয়ম হওয়ায় বর্তমানে কোথাও কোথাও পাকার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। কেন্দুয়া-গোপালপুর প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কজুড়ে কার্পেটিং ওঠে ভেঙে গিয়ে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একেকটা গর্ত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা খানা-খন্দে পানিতে ভরে যায়। কাদা-মাটি ও পানি অতিক্রম করে যানবাহন চলাচল করতে হয়। প্রায় লাখো মানুষ নানান প্রতিকূলতা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে এ সড়কে।

Advertisement

রামপুর গ্রামের তফাজ্জল তালুকদার বলেন, রামপুর-গোপালপুর সড়কের বেহাল অবস্থা। একদিন গোপালপুর গেলে বাড়িতে এতে শরীর ব্যথার ওষুধ খেতে হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে জনসাধারণ অনেক উপকৃত হবে।

গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, রামপুর-গোপালপুর সড়কটি এতই খারাপ যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে চরম ভোগান্তি পেতে হচ্ছে। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে জেলা সদরে যেতে হলে গোপালপুর-রামপুর সড়কে না গিয়ে ৫-৭ কিলোমিটার ঘুরে অন্য সড়কে যেতে হয়। আবার বৃষ্টি হলে বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়ক পুকুরে পরিণত হয়। মানুষের খুবই দুর্ভোগ হয়। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। 

অটোরিকশা চালক হামিদুল জানান, সড়কটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে। কেউই সংস্কার করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ভাঙা সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণে কয়েকদিন পরপর অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সংস্কার হলে আমরা উপকৃত হব।

কেন্দুয়া  উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী আল আমিন সরকার বলেন, এই সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটি আটপাড়া উপজেলা থেকে কেন্দুয়া গোপালপুর-রামপুর হয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। আটপাড়া উপজেলা থেকে রামপুরা-গোপালপুর হয়ে গৌরীপুর উপজেল পর্যন্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে নেত্রকোণা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ঢাকায় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!