মৃত্যুর তালিকায় বৃদ্ধসহ কিশোরী ও গৃহবধূও আছেন। এতে যতই দিন যাচ্ছে হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চাপ ততই বাড়ছে। এমন অবস্থায় নাগরিকদের আরো সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ২৪ ঘণ্টার ডেঙ্গু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন মাত্র ৪ জন। ভর্তি রোগীদের ২৬ জনই রাজশাহী নগরী ও জেলার বাসিন্দা।
.png)
এর আগের দিন শুক্রবার (৪ অক্টোবর) মোট ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৩৬ জন। এরমধ্যে ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন ভর্তি হয়েছিলেন। এদিন আমেনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুরের বাসিন্দা। তিনি হাসপাতালে গত ৪ অক্টোবর ভর্তি হয়েছিলেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রামেক হাসপাতালের এই তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, একদিনের ব্যবধানে ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্বিগুন বেড়ে গেছে। আর ভর্তি রোগীর অধিকাংশই রাজশাহী নগরী ও জেলার বাসিন্দা। এছাড়া চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৮০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। এরমধ্যে ২৩৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৭৫ জনই রাজশাহীর স্থানীয়। আর ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভাগীয় হাসপাতাল, সবখানেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি মারাত্মক হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, রামেক হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের অধিকাংশই রাজশাহীর স্থানীয়। স্থানীয়রা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কার্যকরি উদ্যোগ না থাকায় মশার উৎপাত কমছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর কয়েকদাঁড়া এলাকার এক গৃহবধূ বলেন, বর্ষার এ মৌসুমে সন্ধ্যার পর বাইরে দাঁড়ালেই মশা এসে ঘিরে ধরে। এবারো একই অবস্থা। বাড়িতে প্রতিদিন কয়েল অথবা মশারি ব্যবহার করছি। তারপরও সকালে উঠে দেখি শরীরে মশার কামড়ের চিহ্ন। আর চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত নিধনে কোন কর্মসূচি এলাকায় দেখি নি।
শুধু শহর নয়; উপজেলাগুলোতেও মশার উৎপাত চরমে। ভারি বর্ষণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আর সেখানে জন্ম নিচ্ছে মশা। যা নিধনে উপজেলা প্রশাসনের তেমন কার্যকরি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
রাজশাহীর পবা উপজেলার বাসিন্দা ইয়ামিন আলী বলেন, বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। বর্ষা মৌসুম এলেই পানি জমে। এ পানি না শুকানো পর্যন্ত মশার উৎপাদনও অব্যহত থাকবে। আর গ্রামাঞ্চলে মশা নিধনে প্রশাসনের কোন কর্মসূচি কখনো চোখে পড়েনি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত টিম এখন কাজ করছে। তবে এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বর্তমানে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে এরইমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। লিফলেট বিতরণ করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সামনে এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। রাজশাহী বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।