ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট ভেঙে এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি সম্প্রতি উপজেলায় বয়ে যাওয়া বন্যায় গ্রামীণ জনপথের রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
বন্যায় গ্রামীণ জনপথের কাঁচা পাকা রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে এলজিইডি ও সড়ক বিভাগে ১৭ কোটি টাকার ওপর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
.png)
বিশেষ করে পৌর শহরসহ উপজেলার দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউপির জনগুরুত্বপূর্ণ ছোটবড় গ্রামীণ রাস্তা ঘাট ব্রিজ কালর্ভাট ভেঙে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরসহ এ উপজেলায় বন্যায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে পাকা রাস্তা ১৪ কিলোমিটার আধা পাকা রাস্তা ৬ কিলোমিটার ও কাঁচা রাস্তা ১৯ কিলোমিটার রয়েছে। তাছাড়া ১টি ব্রিজ, ১১টি কালভার্ট ও ০.২০ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। ১৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তায় ক্ষতি হয় ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ইট খোয়ায় নির্মিত ৬ কিলোমিটার রাস্তায় ১ কোটি ২০ লাখ, ১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় ৯৫ লাখ, ১টি ব্রিজ ৩ কোটি ৫০ লাখ, ১১টি কালভার্ট ১ কোটি ৬০ লাখ ও ০.২০ কিলোমিটার বাঁধে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।
সরেজমিন উপজেলার আদমপুর, রাজেন্দ্রপুর, তুলাবাড়ি, খলাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানকার বেশিরভাগ কাঁচা পাকা, আধাপাকা ও পাকা রাস্তা বন্যার পানিতে ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বেশিরভাগ রাস্তায় উঠে গেছে পিচ,নেই খোয়া, আর স্থানে স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। সেই সঙ্গে ভেঙে গেছে ব্রিজ কালভার্টও।
ওইসব রাস্তায় বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি নিয়ে যাতায়ত করছে। বেহাল এসব রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকার মো. হামদু মিয়া বলেন, ইটনা এলাকায় পানির প্রবল স্রোতে হাওড়া নদীর পাড়ের রাস্তাটি অনেক দূর ভেঙে গর্ত সৃষ্টি হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্টের কোনো শেষ নেই। এরইমধ্যে পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য গ্রামবাসী মিলে বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী একটি সেতু তৈরি করে। আমাদের চলাচলে কষ্টের যেন শেষ নেই।
খলাপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, বন্যায় হাওড়া বাঁধ ভেঙে আমাদের চলাচলের একমাত্র এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির প্রায় ১শ হাতের ওপর ভেঙে বিশাল বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এখন চলাচলে আমাদের খুবই ভোগান্তি হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করার দাবি জানায়।
গাজীর বাজার এলাকার মো. মিজান মিয়া বলেন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের গাজীর বাজারের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বেইলি সেতুটি পানির স্রোতে ভেঙে যায়। এতে করে আমাদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাবাড়ি গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ছিল এটি। এবারের বন্যায় বেশিরভাগ রাস্তা থেকে ইট সুরটি উঠে গেছে। পুরো রাস্তাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলে গর্তের মধ্যে পানি জমে থাকে। বন্যার পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে।
একই গ্রামের প্রবাসী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর কষ্ট করে এই রাস্তাটি করা হয়েছিল। এবারের বন্যায় পুরো রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বর্তমানে রাস্তা যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে পায়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর।
শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার বলেন, বন্যায় পুরো রাস্তা ভেঙে গেছে। স্কুলে আসা যাওয়া করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টি হয়ে গর্তের মধ্যে পানি জমে থাকে। পুরো রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় পায়ে হেঁটে চলাচল করা আরো কষ্টকর হয়ে যায়।
সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. কাজল মিয়া বলেন, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার ওপর থেকে সুরকি ও বিটুমিন উঠে গেছে। খুবই কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোগড়া ও মনিয়ন্দ এলাকার বেশিরভাগ গ্রামের রাস্তাঘাট দিয়ে যানবাহন চালাতে খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে। এক দিন গাড়ি চালালে পরের দিন চালানো খুবই কষ্ট হয়ে যায়। সারা শরীর ব্যথা করে।
আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১ টি ব্রিজ ও ১১ টি কালভার্ট রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। এরপর ও আমরা এলাকায় খোঁজ খবর নিচ্ছি। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র অতি দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।