ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আখের রস বিক্রি করে সংসার চলে জিয়াউর খানের

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:০৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আখের রস বিক্রি করে সংসার চলে জিয়াউর খানের
আখের রস বিক্রি করে সংসার চলে জিয়াউর খানের -ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার হাটে-বাজারে পথে-প্রান্তরে আখের রস বিক্রি করে যাদের সংসার চলে তাদেরই একজন মো. জিয়াউর খান (৫০)। তিনি লোহাগড়া পৌরসভাধীন রাজুপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ খানের ছেলে।

মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে বেছে নেয় যেকোনো জীবিকা। জিয়াউর ঠিক তেমনই বেছে নিয়েছেন মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর জীবিকা। কিছু টাকা ধার নিয়ে ৪০ হাজার টাকায় ইঞ্জিনচালিত একটি আখের রস তৈরির যন্ত্র ক্রয় করেন তিনি। গত ১৫ বছর ধরে এই মাড়াই মেশিন দিয়ে আখ থেকে রস বের করে বিক্রি করে তার সংসার চালান।

গ্রামের হতদরিদ্র যে মানুষেরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ঘুরে ঘুরে সকলের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন, তাদের জীবনের গল্প শোনা হয় না কারো। হতদরিদ্র এই জিয়াউর খানের নিজের কোনো জমি-জমা নেই। তিনি অন্যের জমিতে কামলা খাটতেন।

Advertisement

১৫ বছর আগে মাঠের কাজ ছেড়ে দিয়ে এই ব্যবসায় নামেন তিনি। স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে তার সংসার। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় মেয়ে কলেজে, ছেলে একটা ৯ম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। তাদের লেখাপড়া শেখাতে অনেক টাকা ব্যয় হয়।

তার সংসারে টাকা আয় করার মতো কোনো লোক না থাকায় তিনি বেছে নিয়েছেন এই আখের রস বিক্রি করার কাজ। এই আখের রস বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার খরচ চালাতে হয় তার। তিনি অন্যের জমি থেকে আখ ক্রয় করে ইঞ্জিনচালিত মাড়াই মেশিন দিয়ে আখ থেকে রস বের করেন। 

জিয়াউর খান বলেন, প্রতিদিন বিকেলে উপজেলার লক্ষীপাশা ব্রিজের দক্ষিণে রাস্তার পাশে দা‍ঁড়িয়ে ইঞ্জিনচালিত মাড়াই মেশিন দিয়ে আখ থেকে রস বের করে প্রতি গ্লাস ২০ টাকায় বিক্রি করি। তরুণ-তরুণী, যুবক, বৃদ্ধ সবাই এখানে এসে আখের রস পান করে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ভিড় জমায়। আবার অনেকে বাসাবাড়িতে ছেলেমেয়েদের জন্য ১০-১৫ গ্লাস করে রস কিনে নিয়ে যান।

বিভিন্ন স্থান থেকে আখ সংগ্রহ করাসহ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ হয় তার প্রতিদিন। প্রতি গ্লাস রস ২০ টাকা করে বিক্রি করলে তার প্রতিদিন বিক্রি হয় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। খরচ বাদে প্রতিদিন আয় হয় ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, সারা বছরই আখ পাওয়া যায়। তিনি সারা বছরই রস বিক্রি করেন। তবে চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ রসের চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া রমজান মাসেও এ রসের অনেক চাহিদা থাকে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হৃদয় হোসেন বলেন, আখের রস তৈরির জন্য মাড়াই মেশিন কাউকে দেওয়া হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে সরকার যদি বেকার যুবকদের জন্য এমন মাড়াই মেশিন কম মূল্যে বিতরণ করে, তাহলে দেশে অনেক বেকারত্ব দূর হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: লোহাগড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!