ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নিজ সন্তানকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
নিজ সন্তানকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল 
গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা শিশু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্বামীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে নিজের ১৮ মাসের শিশু সন্তানকে গাছের সঙ্গে নির্মমভাবে বেঁধে রেখেছেন মা শরুফা আক্তার। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 

এর আগে, গত বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের কুন্ডা গ্রামের ইব্রাহিমপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে স্বামী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় আড়াই বছর আগে কুন্ডা গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে শরুফা আক্তারের সঙ্গে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে তুষার মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর শরুফা ফাতেমা আক্তার নামে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। তার বয়স দেড় বছর। দীর্ঘদিন সংসার করার পর নানা বিষয় নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হলে শরুফা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কিছুদিন ধরে স্বামীকে টাকা পাঠানোর জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু তার স্বামী সাড়া দেননি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বেলা ৩টায় শরুফা তার ইমো নম্বর থেকে স্বামীকে একটি ভিডিও পাঠান। ভিডিওতে দেখা যায়, শরুফা বাবার বাড়ি উপজেলার কুন্ডা গ্রামের রাস্তার ওপর নিজের শিশুসন্তানকে কালো কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। ভিডিওতে ওই শিশুকে মায়ের নির্যাতনে কাঁদতে দেখা যায়।

নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, বিকেলে শুনেছি শিশু সন্তানকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেছেন মা। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি।

শিশুটির বাবা তুষার মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার নাসিরনগর থানায় একটি অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ ও এলাকার মাতবরেরা বসে দুই পরিবারকে মিলিয়ে দেন। একটি ভুল–বোঝাবুঝিতে এমন হয়েছে। বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে শরুফার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্ত করে জানা যায় বেশ কিছুদিন আগে ভিডিওটি করেন শরুফা। এরপরই স্বামীর কাছে পাঠিয়ে টাকা চান। স্বামী তুষারের অভিযোগ তার স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখেন। তবে পরে এসে ওই ব্যক্তি জানিয়ে গেছেন বিষয়টি পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেলা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!