ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কক্সবাজারে বন্যায় কৃষি খাতে ক্ষতি প্রায় ৭৫ কোটি টাকা

কক্সবাজার প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৫:২১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
কক্সবাজারে বন্যায় কৃষি খাতে ক্ষতি প্রায় ৭৫ কোটি টাকা
কক্সবাজারে বন্যায় কৃষি খাতে ক্ষতি প্রায় ৭৫ কোটি টাকা -ছবি: সংগৃহীত

গত আগস্ট ও চলতি সেপ্টেম্বরে দুই দফা বন্যায় প্লাবিত হয় কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল। ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের, খামার ও স্থাপনার ব্য‍াপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, গত ৩০ বছরেও এত ভারী বর্ষণ দেখেননি কক্সবাজারবাসী। বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৯টি উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দুই দফা বন্যায় কক্সবাজারের ২৬৯১ হেক্টর ফসলি জমি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। নষ্ট হয়ে যায় প্রায় ১৬ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন ফসল। এতে কৃষি খাতে ৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ২৩৯৫৪ কৃষক।

সদরের পিএমখালী এলাকার কৃষক মো. হাসান বলেন, এই রকম ভারী বৃষ্টি আমার জীবনে আর দেখিনি। দুই দফা বন্যায় আমার সব শেষ হয়ে গেল। বন্যায় আমার ক্ষেতের প্রায় ১২ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। গত দুই বছরে এই ক্ষতি পোষানো কঠিন হবে।

Advertisement

রামু ও উখিয়ার কয়েকজন কৃষক বলেন, এবারের বন্যায় বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ডুবে দুই উপজেলার কয়েক হাজার কৃষকের ধানের চারা পচে গেছে। কেউ কেউ পানির নিচে ডুবে থাকা অবস্থায় ধান কেটে নিলেও কাজে আসছে না। কারো পাকা ধান মাটিতে মিশে গেছে।

রামুর কৃষক মনির আহমেদ বলেন, দুই দফা ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বাঁকখালী নদীর পানি বেড়ে রামুর ৯টি ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে ডুবে যায় ৫ হাজার একরের বেশি ধান ও ফসলের জমি।

রামুর কৃষক ছাবের আহমদ বলেন, ঋণের টাকায় এবার এক একর জমিতে আউশের চাষ করেছিলাম। ধান ঘরে তোলার আগে বন্যার পানি সব শেষ করে দিল। ফসল ঘরে তোলার সুযোগই হয়নি আমার। এই ক্ষতি পোষানো কঠিন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, আগস্ট মাসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার কৃষককে প্রতি এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি আমন বিষ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার এবং জনপ্রতি এক হাজার করে নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও এক হাজার করে নগদ টাকা দেওয়া হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও বন্যায় নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। বন্যায় ১৩২টি কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৮৩২টি কাঁচা স্থাপনা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৭টি ব্রিজের আংশিক ক্ষতি হয়। এছাড়া চিংড়ির ঘের, মাছের ঘের ও হাঁস-মুরগির খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: কক্সবাজার
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!