ডুমুরিয়া উপজেলায় মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ২৮ হাজার ৫৭৪ মাছ চাষি। এলাকাটিতে গলদা ও বাগদা চিংড়ি এবং কার্প জাতীয় মাছ চাষ হয় প্রচুর পরিমাণ। ডুমুরিয়ার উৎপাদিত বাগদা ও গলদা চিংড়ি খুলনা অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও প্রচুর পরিমাণে রফতানি হয়। মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনে ডুমুরিয়া উপজেলার অবস্থান খুলনা জেলার শীর্ষে।
আরো পড়ুন >>> কক্সবাজারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আটক
.png)
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে ছোট বড় মিলিয়ে ২৬ হাজার ৫৭০ টি মাছের ঘের এবং ৫ হাজার ৬৩০ টি পুকুর রয়েছে। উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের এ সব মাছের ঘের এবং পুকুর থেকে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এরমধ্যে ১৮ হাজার ২০০ মেট্রিক টন সাদা মাছ। বাকী ১০ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত এসব মাছের বাজার মূল্য আনুমানিক ১৪ শ ৭৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ বছর টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ২২৬ টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার মাছের ঘের, পুকুর, ধান ও ফসলের ক্ষেত।
ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোক্তার হোসেন বলেন, ভারীবর্ষণে গোনালী-বামুন্দিয়া, রংপুর, বিলপাটিয়া, শরাফপুর গ্রামে বাড়ি-ঘর, সড়ক, ফসলি জমি ও মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে গেছে। ভেসে গেছে সাদা মাছ ও গলদা-বাগদা চিংড়ি।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মেট্রোপলিটন থানাসহ ৯ উপজেলায় (পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) ৪২৭টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে প্রবাহমান রয়েছে ১৫৫টি। ভরাট ও সরু হয়ে ২৭২টি খালের নাব্য নেই। নাব্য হারানো খালের মধ্যে লবণচরায় ২টি, দৌলতপুর ২টি, রূপসায় ৩০টি, তেরখাদায় ৫টি, ফুলতলায় ৩৭টি, দিঘলিয়ায় ১৪টি, ডুমুরিয়ায় ৪৩টি, বটিয়াঘাটায় ৫৭টি, দাকোপে ৪০টি, কয়রায় ২৭টি ও পাইকগাছায় ১৫টি।
এ ছাড়া ৪২৭টি খালের মধ্যে ৯ উপজেলায় ইজারা দেওয়া আছে ১১৬টি। যেগুলো নেট-পাটা ও বাঁধ দিয়ে খণ্ড খণ্ড করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে ভারী বৃষ্টিতে খাল গুলোতে পানির অবাধপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। খালের আশপাশে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।
ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। ছোট বড় সব মিলিয়ে ১২ হাজার ৫৩০ টি ঘের এবং পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব ঘের এবং পুকুর থেকে ৩ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন সাদা মাছ ভেসে গেছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। চিংড়ি ভেসে গেছে ৪ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য বাজার মূল্য ৪৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কাঁকড়া ভেসে গেছে সাড়ে ৭ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়াও ডুমুরিয়া উপজেলায় বন্যায় মৎস্য খাতের অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে আমরা যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করেছি সব মিলিয়ে আমাদের উপজেলায় মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬০ কোটি ৭ লক্ষ টাকা হবে।
সিনিয়র মৎস্য অফিসার আরো বলেন, এর আগে ঘূর্ণিঝড় রেমালে ডুমুরিয়া উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তখনও কয়েক হাজার মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ছিলো। ভেসে গিয়েছিল কয়েক কোটি টাকার সাদা এবং চিংড়ি মাছ। সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় রেমালে তখন ডুমুরিয়া উপজেলার মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী মৎস্য অধিদফতরের চাহিদা মোতাবেক প্রথম ধাপের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। ২য় ধাপে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।