ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি ইউনিয়নের হরিজন কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পাকশি ইউনিয়নের হরিজন কলোনিতে সরকারি জমি লিজ নিয়ে বাড়ি করে বসতি গড়ে তুলেছে প্রায় ১০০ পরিবার। সেখানে অবাধেই চলে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রি। আর এই মাদক বিক্রিতে বাধা দেন কলোনিতে বসবাসরত শ্রী রাজু, শ্রী রাজা ও শ্রী আশিকসহ কয়েকজন যুবক।
মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় একদল মাদক কারবারি আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্রী রাজু নামের ওই ব্যক্তির বাড়িতে অতর্কিত হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও একজন বয়স্ক নারীকে পিটিয়ে আহত করে।
.png)
ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে শ্রী রাজু বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় হামলাকারী শ্রী টুটুল ভুঁইমালী (৩৫), শ্রী বিমল (৩২), শ্রী সুরুজ চরণ ভুঁইমালী (৪০), শ্রী রতন ভুঁইমালী (২৫), শ্রী সাগর ভুঁইমালীকে (১৯) নামীয় ও অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলা দায়েরের দুইদিন পরই রোববার (২৫ আগস্ট) মামলার চার নম্বর আসামি শ্রী সুরুজ চরণ তার মেয়ে শ্রী স্বর্ণালীকে (১৪) জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শ্রী রাজু ও শ্রী রাজাকে নামীয় আসামি করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঐ পরিবারের দাবি তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলাটি মিথ্যা। শুধুমাত্র সম্মানহানি ও হয়রানি করতেই এমন মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
মাদক বিক্রি ও সেবনকে ঘিরে যে হামলা-ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং হামলার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি সঠিক কিনা তা জানতে হরিজন কলোনিতে দুইদিন গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার শ্রী স্বর্ণালীর সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করা হলে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
পরে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটকারী মামলার আসামি ও মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদী শ্রী সুরুজ চরণের সঙ্গে মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি বা আমার মেয়ে এই ব্যাপারে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। যা কথা হবে আদালতে হবে।
স্থানীয়দের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন এই কলোনি মাদকের অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না। আর ধর্ষণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি সত্যিই এ ঘটনা হতো, তবে সেটা জানতে বা দেখতে পেতাম।
ভুক্তভোগী ও উপজেলা হরিজন ঐক্য পরিষদের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শ্রী রাজু বলেন, মাদক বিক্রি ও সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে তারা আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। আমার পিসিকে মারধর করে তার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন খুলে নিয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই আমি থানায় মামলা করেছি বলে আমাদের হয়রানি ও মানহানি করতে তারা ধর্ষণচেষ্টার একটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ভয়ে আমি আর আমার পরিবার ঠিক মতো বাসায় থাকতে পারছি না।
ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।