বন্যার শুরু থেকে (৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তন্মধ্যে ৮০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায়। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট থেকে লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ডায়রিয়ায় ৮০০ জন, শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণে (আরটিআই) ৩৪ জন এবং চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫০ জন।
.png)
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাগেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে রায়পুরে চারজন, রামগঞ্জে তিনজন, কমলনগরে ২১ জন ও রামগতিতে ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্লাবিত এলাকায় পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে চর্মরোগের সৃষ্টি হচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফসকা পড়ছে। একইসঙ্গে পানি ব্যবহার করায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শিশু। নারীরা আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগে।
গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চর্মরোগে আক্রান্ত অন্তত ২০০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন জানিয়ে লক্ষ্মীপুর প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজু হাসান।
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অরুপ পাল বলেন, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৯৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরমধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫১ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন বলেও জানান তিনি। বন্যকবলিত পানির কারণে এমন হচ্ছে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, বন্যাকবলিতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে ৬৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে বন্যার্তদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। বন্যার্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।