অভিযুক্ত বাবলু হোসেন উপজেলার দয়ারামপুর ইউপির ডুমরাই এলাকার তৈয়ব আলী ও জরিনা বেগম দম্পতির ছেলে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে বাবলু হোসেনের জন্ম। ২০০৮ সালে তিনি ভোটার হন। ২০০৮ সালে তার বাবার নাম ছিল তৈয়ব আলী এবং মাতা জরিনা বেগম। ঐ বছরই তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করে বাবা তৈয়ব আলীর নাম পরিবর্তন করে তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখকে বাবা হিসেবে সংযোজন করেন।
.png)
তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন উভয় স্থানেই মাতার নাম জরিনা বেগমই রাখেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখ ওই এলাকার আশোক আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বাবলু হোসেনের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখ ১৯৭৯ সালে অবিবাহিত অবস্থায় ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। আয়ুব আলীর কোনো স্ত্রী, সন্তান ছিল না। তার মৃত্যুর ৬ বছর পর বাবলু হোসেনের জন্ম হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলীর কোনো ওয়ারিশ না থাকায় সম্মানী ভাতা পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাবলু হোসেন এই জালিয়াতির আশ্রয় নেন। সোনালী ব্যাংক বাগাতিপাড়া শাখা বাবলু হোসেনের নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাবুল হোসেনের এক প্রতিবেশী জানান, আয়ুব আলী ১৯৭৯ সালে মারা যান। তার কোনো স্ত্রী, সন্তান ছিল না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাস আলী বলেন, বাবলু হোসেন জাতীর পরিচয়পত্রে তার বাবার নাম পরিবর্তন করেছেন। সেই সময় সংশোধনীর কাগজপত্র ডিজিটাল না হওয়ায় হাতে লিখেই পাঠানো হতো। মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলীর কোনো স্ত্রী, সন্তান না থাকায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস এর লোকজনের সুপারিশেই সংশোধনী কাগজপত্র পাঠানো হয়েছিল।
বাবলু হোসেন বলেন, ছোট বেলায় তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখ তাকে পালিত পুত্র হিসেবে নেন। তার প্রথম জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম তৈয়ব আলী ভুল করে দিয়ে ফেলেন। পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সহায়তায় বাবার নাম তৈয়ব আলীর পরিবর্তে আয়ুব আলী শেখ নামে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করেন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনামিকা নজরুল জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। কাগজপত্রাদি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।