জানা যায়, হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার জেলার যাতায়াতের সংযোগ সড়ক নবীগঞ্জের পানিউমদা-শমসেরগঞ্জ সড়ক। এ সড়ক দুই জেলার লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র অবলম্বন। গত ৩-৪ বছর ধরে সড়কের সাড়ে চার কিলোমিটার অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বর্তমানে সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিনই সড়কে ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা ও ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে সড়কটি মানুষের কাছে দুঃখ-দুর্দশার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পথচারী, যাত্রীসাধারণসহ পরিবহন চালকদের। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চলাচলে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। সড়কটি কয়েক দফা মাপজোক করা হলেও সংস্কার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
.png)
পানিউমদা টঙ্গীটিলা এলাকার সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। কিছুদিন আগে অটোরিকশা উল্টে আমিসহ তিজন আহত হয়েছিলাম। এ ঘটনায় আহত হয়ে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।
একই এলাকার বাসিন্দা জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কয়দিন পর পর রাস্তা মাপজোক হয়, কিন্তু রাস্তা সংস্কার আর হয় না।
বসির উদ্দিন বলেন, অটোরিকশা দিয়ে এখন আর বাজারে যাই না, রাস্তার যে অবস্থা- কখন উল্টে পড়ি বলা যায় না। ভয়ে হেঁটে বাজারে যাই।
পিকআপ চালক খুর্শেদ আলী জানান, এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত অনেক কষ্টকর, মালামাল নিয়ে চলাচল করা যায় না, হঠাৎ গাড়ি উল্টে যায়। তিনি বলেন, এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে গাড়ির যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিনে সমস্যা হয়। মেরামত করতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়, সড়কটি দ্রুত সংস্কার হলে আমরা উপকৃত হই।
অটোরিকশা চালক কুদ্দুছ মিয়া বলেন, সড়কে বড়-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এ সড়কে যাত্রী চলাচল কমে গেছে। তাই আগের মতো আয়-রোজগার হয় না।
নবীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী মো. জোনায়েদ আলম বলেন, এরই মধ্যে পানিউমদা-শমসেরগঞ্জ সড়ক সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে এলে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।