চন্দনা নদীর ওপর নির্মিত রাজবাড়ী জেলার সবচেয়ে বড় রেলসেতু। সেতুর ওপর কাঠের স্লিপার বিছানো। তার ওপর রেললাইন। রেললাইন আর সেতুর লোহার মাঝখানে কাঠের স্লিপার আটকানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক স্লিপারই শক্তভাবে আটকে থাকে না। তাই এসব স্লিপার সঠিক স্থানে রাখার জন্য একটি বাঁশ মাঝখান থেকে ফেড়ে স্লিপারের ওপর বিছিয়ে পেরেক মেরে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া একই সেতুর কোনো কোনো স্থানে কাঠের ছোট টুকরো দিয়ে পেরেক মারা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার গুরুত্বপুর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে অনেকগুলো ট্রেন যাতায়াত করে। খুলনা থেকে নকশী কাথা মেইল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা যায়, বেনাপোল থেকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ঢাকা যায়, রাজশাহী-ঢাকা রুটে মধুমতি এক্সপ্রেস চলাচল করে। এছাড়া টুঙ্গিপাড়া-রাজশাহী রুটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। গোয়ালন্দ-ঘাট থেকে পোড়াদহ রুটে একটি শাটল ট্রেন দিনে চারবার এই সেতু দিয়ে চলাচল করে।
.png)
রাজবাড়ী রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী রেলওয়ে অঞ্চলে মোট রেলওয়ে সেতু রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৯৩টি। এরমধ্যে গার্ডার ব্রিজ রয়েছে ৪৯টি। আর কালভার্ট ব্রিজ রয়েছে ৪৪টি। রাজবাড়ী-ঢাকা, রাজবাড়ী-রাজশাহী, রাজবাড়ী-খুলনা, রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া রুটে মোট ৯টি ট্রেন যাতায়াত করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহুল বলেন, এই রেলপথে অনেকগুলো দ্রুতগামী ট্রেন যাতায়াত করে। আমি নিজেই পদ্মা সেতু চালুর পর ট্রেনে ঢাকা যাই। কারণ, ট্রেনে ভ্রমণ অনেকটা নিরাপদ। কিন্তু সেখানে লাইন ঠিক রাখতে বাঁশের ব্যবহার এটা মানা যায় না। কর্তৃপক্ষ যেন নতুন করে বিষয়টি ভাবে।
বিষয়টি জানার জন্য রাজবাড়ী রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. মাহবুব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেতুর ওপর বাঁশ ব্যবহার করার কারণ মাঝখান থেকে যেন স্লিপার এক জায়গাতে না হয়। এজন্য বাঁশ ফেড়ে পেরেক মারা হয় স্লিপারের সঙ্গে। কোথাও কাঠও ব্যবহার করা হয় একইভাবে।
বাঁশ এবং কাঠ এই কাজ করার উপযুক্ত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে করা হচ্ছে। লোহা ব্যবহার করলে সেগুলো চুরি হয়ে যায়। এজন্য বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়। এটা সবসময় খেয়ালও রাখা হয়। দুর্ঘটনার কোনো ঝুঁকি নেই।